‘আমি একটি ছবির মতো ছবি নির্মাণ করতে চাই’

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:১৪

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য ব্যবসাসফল ছবি দর্শকদের উপহার দিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও নির্মাতা অরুণা বিশ্বাস। বর্তমানে অভিনয়-নির্মাণের পাশাপাশি চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। নিজের নির্মিতব্য চলচ্চিত্রসহ ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল

বর্তমান কাজের ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাই—

আমার সাম্প্রতিক কাজ বলতে, সরকারি অনুদানে ‘অসম্ভব’ শিরোনামে একটি ছবি নির্মাণ করছি। পাশাপাশি চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।

‘অসম্ভব’ ছবিটির কাজ কতটা সম্পূর্ণ হয়েছে? ছবিটিতে কারা অভিনয় করবেন?

ছবিটির জন্য শিল্পী, মিউজিক ডিরেক্টর, লিরিক্স রাইটার থেকে শুরু করে অন্যান্য কলাকুশলী নির্বাচন করছি। কিন্তু ছবিটির গল্প ও শিল্পী সম্পর্কে এখনই কিছু জানাতে চাচ্ছি না। কারণ আগে থেকে ছবির সব বিষয় বলে দিলে দর্শক আকর্ষণ অনেক কমে যায়। তাই এই বিষয়গুলো দর্শকদের জন্য বিশেষ চমক হিসেবে রাখতে চাই।

সরকারি অনুদানের অনেক ছবি আলোর মুখ দেখে না। সেই জায়গায় নির্মাতা অরুণা বিশ্বাস নিজের ছবি নিয়ে কী বলবেন?

অন্যের কথা বলতে পারব না। তবে আমি একটি ছবির মতো ছবি নির্মাণ করতে চাই। যে ছবির মাঝে দেশ, দেশের প্রতি ভালোবাসা, দেশের সংস্কৃতি যাত্রা, পরিবার, সবই থাকবে। দর্শকরা থেকে ফিরে যেন বলে ভালো একটি ছবি দেখে এলাম।

এখন কাজ না জানা অনেককেই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছেন। এতে সৃজনশীল শিল্পচর্চা ব্যাহত হচ্ছে না?

সৃজনশীল কাজ হচ্ছে না, তা কিন্তু না। অনেকেই ভালো কাজ করছেন। তাছাড়া কাজ না জানলে কাজ করতে পারবে না, বিষয়টি তেমনও না। শিল্পের প্রতি ভালোবাসা, দায়বদ্ধতা থাকলে কাজ করতেই পারে। কিন্তু কেউ যদি শুধু টাকা উপার্জনের চিন্তায় কাজ করে তাহলে সেটাকে আমি খারাপ বলবো। তবে কাজ না জানাদের দিয়ে শিল্পচর্চা খুবই দুঃখজনক।

সিনিয়রদের অবমূল্যায়ন প্রসঙ্গে কী বলবেন?

কেন এমন অবস্থা তৈরি হচ্ছে সেটা বলতে পারব না। আমি একটি বিষয় লক্ষ্য করছি যে, যারা উচ্চ পর্যায়ে বসে আছেন তারা সিনিয়র শিল্পীদের দেখলে বিরক্ত হন। দীর্ঘদিন ধরে তারা

আপনি দীর্ঘদিন সেন্সর বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছবির ছাড়পত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো দেখেন?

দেশ, ধর্ম বিরোধী বা সহিংসতা তৈরি করতে পারে এমন বিষয়গুলো নিয়ে আমরা সচেতন থাকার চেষ্টা করি। তবে ইদানিং এত নিম্নমানের ছবি সেন্সরে জমা পড়ছে, যেগুলো দেখলে আমরা খুবই কষ্ট পাই। যাদের বিনোদিত করার জন্য ছবি বানাচ্ছি তারা যদি ছবিতে বিনোদন না পায় তাহলে কেন হলে আসবে!

এ ধরনের নির্মাণের কারণে দর্শক হলবিমুখ হচ্ছে না?

অবশ্যই হচ্ছে। শুধু হলবিমুখ না, পাশাপাশি প্রশংসার বদলে নেতিবাচক আলোচনা করার সুযোগও পাচ্ছে তারা।

দীর্ঘদিন পর নতুন ছবি মুক্তির খবর এলেও বরাবরের মতো প্রচারণা নেই। দর্শক হলে ফিরবে মনে করেন?

নতুন করে তারা কী প্রচার করবে। ছবি নির্মাণের আগেই তো সবকিছু দর্শকদের জানিয়ে দিয়েছে। মুক্তির আগে ছবিকে সুপারহিট বানিয়ে দিলে দর্শক আগ্রহ থাকবে কীভাবে!

ওটিটিতে ছবি মুক্তি চলচ্চিত্র সংকট দূর করতে পারবে কী?

হল এবং ওটিটি ভিন্ন দুটি মাধ্যম। হলে বসে ছবি দেখার মজা কিন্তু একটি মোবাইলে পাবেন না। তবে মাধ্যমটি আমাদের জন্য ইতিবাচক।