সুজলা সুফলা, শস্য-শ্যামলা মলয়জ শীতলা এক অনিন্দ্য সুন্দর এই দেশ আমাদের। ‘বিশ্বকবির সোনার বাংলা, নজরুলের বাংলাদেশ, জীবনানন্দের রূপসী বাংলা, রূপের যে তার নাইকো শেষ।’ পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও বুড়িগঙ্গা বিধৌত বাংলার রূপ ও সৌন্দর্যে সবই মনোমুগ্ধকর। বাংলাদেশ সবুজের দেশ। কিন্তু অপরিকল্পিত স্থাপনার জন্য এসব কিছু যেন রূপকথার গল্প!
আমাদের জিডিপির প্রায় ২২ শতাংশ আয় আসে কৃষি থেকে। এদিকে অধিক হারে রাস্তা, মিল-কারখানা, অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর, অবকাঠামো তৈরিতে চাষযোগ্য জমি থেকে প্রতিদিন ২২০ হেক্টর হিসেবে প্রতি বছর হারিয়ে যাচ্ছে প্রায় ৮০ হাজার ৩০০ হেক্টর জমি। বর্ধিত জনসংখ্যার জন্য পাল্লা দিয়ে নিবিড়ভাবে চাষ করা হচ্ছে ধান আর ধান। এখনো বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ লোক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশে প্রতি বছর ৮০ লাখ মেট্রিক টন আলু উত্পাদন হয়। কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত গতিতে স্থাপনা গড়ে ওঠায় ফসলি জমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে খাদ্য-শস্য রপ্তানি না করে আমদানি করতে হবে। একটা সময় বাংলাদেশ বছরে হাজার হাজার মেট্রিক টন খাবার বিদেশে রপ্তানি করত। তাই আমাদের উচিত ফসলি জমিগুলোকে রক্ষা করা। আর সেজন্য অপরিকল্পিতভাবে ঘরবাড়ি, কারখানা নির্মাণ বন্ধ করতে হবে। এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে সবাইকে।
মাজহারুল ইসলাম শামীম
শিক্ষার্থী, ফেনী সরকারি কলেজ
