নিরাপদ হোক শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৩৪

শ্রম হলো উত্পাদনের জীবন্ত উপকরণ। দক্ষতানুযায়ী যারা শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করে, তাদেরকে আমরা শ্রমিক বলি। মাঠে-ঘাটে দেখতে পাই অগণিত শ্রমিকের পদচারণা। এসব শ্রমজীবী মানুষের নিরলস পরিশ্রমেই গড়ে উঠেছে নতুন নতুন সভ্যতা। শ্রমজীবী মানুষের উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলেও এখনো মানবেতর জীবনযাপন করছে অসংখ্য শ্রমিক। পাচ্ছে না ন্যায্য মজুরি। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এসব মেহনতি মানুষের দুর্দশার অন্ত নেই। নিরাপদ নয় তাদের কর্মপরিবেশ। অস্বাস্থ্যকর, ঘিঞ্জি ও নোংরা পরিবেশে কাজ করে কাটিয়ে দিচ্ছে সারাটা জীবন! নিরাপদ কর্ম পরিবেশের অভাবে ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ড ও মহামারিতে অকালে প্রাণ হারাচ্ছে অসংখ্য শ্রমিক। তাই এসব বিষয়ে সচেতনতা জরুরি। নিরাপদ কর্মপরিবেশের জন্য তিনটি বিষয়ে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রথমত, ভবনের সুরক্ষা। বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, অগ্নি সুরক্ষা। অধিকাংশ শিল্প কারখানায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে, দাহ্য পদার্থ যত্রতত্র রাখার কারণে অগ্নিকাণ্ড ঘটছে। তাই প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে বিধি নির্ধারিতভাবে অগ্নিকাণ্ডের সময় প্রত্যেক তলার সঙ্গে সংযোগ রক্ষাকারী অন্তত একটি বিকল্প সিঁড়িসহ বহির্গমনের উপায় এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জামের ব্যবস্থা করতে হবে। তৃতীয়ত, স্বাস্থ্য সুরক্ষা। কলকারখানায় ব্যবহূত যন্ত্রপাতির বিষাক্ত ধোঁয়া, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ শ্রমিকের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা নিশ্চিত করা ছাড়াও শ্রমিকের অসতর্কতায় বা কারিগরি কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে প্রাথমিক চিকিত্সার ব্যবস্থা করতে হবে।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ মাস্ক ব্যবহার ও স্যানিটাইজেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। সংকটময় মুহূর্তে সরকারি অনুদান প্রদান করা হলে মেহনতি মানুষদের জীবনযাপন কিছুটা সহজ হবে। সমসাময়িক পরিস্থিতিতে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা খুবই জরুরি।

মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ

শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা