সাক্ষীর অভাবে থমকে আছে বিচার কার্যক্রম

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:১৪

কক্সবাজারের রামুর বৌদ্ধপল্লি ট্র্যাজেডির ৯ বছর পূরণ হচ্ছে আজ। ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে গুজবের সূত্র ধরে রামুর ১২টি বৌদ্ধ বিহার ও বৌদ্ধপল্লিতে এক যোগে অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনা ঘটিয়েছিল দুর্বৃত্তের দল। পরের দিন একই ঘটনার জের ধরে উখিয়া এবং টেকনাফেও আরো সাতটি বৌদ্ধ বিহার পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। এ হামলার পর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যে ফাটল দেখা দেয়। তবে সরকার বৌদ্ধমন্দিরগুলো আবার দৃষ্টিনন্দনভাবে গড়ে দেয়। এতে পূর্বের সম্প্রীতি ফিরে আসে। কিন্তু সাক্ষীর অভাবে শেষ হচ্ছে না মামলার বিচারিক কার্যক্রম। অনাকাঙ্ক্ষিত এ হামলার দিনটি উপলক্ষ্যে আজ উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা করা হবে। এমনটি জানিয়েছেন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতারা।

করোনাকালীন সাক্ষীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব না হওয়ায় বিচার কার্যক্রম পিছিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম।

এ ঘটনায় করা ১৯ মামলায় ১৫ হাজার ১৮২ আসামির কম-বেশি সবাই জামিনে রয়েছেন। ৫২৬ জন গ্রেফতার হওয়ার পর জামিন নেন আর বাকিরা আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন বলে জানিয়েছে আদালত সূত্র। তবে এখনো শতাধিক অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক রয়েছে। সব মামলারই চার্জশিট হলেও সাক্ষীর চরম সংকটে ঝুলে আছে বিচার কার্যক্রম, এমনটি দাবি পিপি ফরিদুল আলমের।

সূত্র জানায়, বৌদ্ধপল্লি ট্র্যাজেডি নিয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশে গঠিত বিচার বিভাগীয় কমিটি তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দিলেও গত ৯ বছরে মামলার চূড়ান্ত শুনানির অগ্রগতি হয়নি। ঘটনার হোতাদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেল গঠন করা হলেও সাক্ষীর কারণে মামলার তেমন কোনো অগ্রগতি নেই বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

কক্সবাজার আদালতের কোর্ট পরিদর্শক চন্দন চক্রবর্তী বলেন, ১৯ মামলার মধ্যে রামু থানায় সুধাংশু বড়ুয়ার করা মামলাটি দুই পক্ষের আপস মীমাংসার ভিত্তিতে খারিজ করে দেন আদালত। বাকি ১৮টি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন এবং সবগুলো মামলাই সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে আছে। তবে উপযুক্ত সাক্ষী না পাওয়ায় থমকে আছে মামলার গতি।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান বলেন, মোট ১৮টি মামলায় এ পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।  পলাতকদের  আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।