প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নথি জালিয়াতি নিয়ে হাইকোর্ট

সাহস ভালো দুঃসাহস ভালো নয়

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:২৭

জালিয়াতির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর একটি সিদ্ধান্তকে বদলে দেওয়ার মামলার আসামি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস- এর সাবেক কোষাধ্যক্ষ অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর এম আবদুস সালাম আজাদকে অবিলম্বে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। যদি তিনি দেশের বাইরে পলাতক থাকেন তাহলে তার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে বলা হয়েছে। মামলার এক আসামির জামিন শুনানিকালে বিষয়টি নজরে এলে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের দ্বৈত বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশ দেয়। আদালত বলে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নথি জালিয়াতি একটা ঘৃণ্য অপরাধ। এ অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের কোনো ছাড় নয়। সাহস ভালো, তবে দুঃসাহস ভালো নয়।

মামলার আসামি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ডেসপাস রাইটার মো. রুবেল হাইকোর্টে জামিন চান। ঐ আবেদন খারিজ করে দুদককে মামলাটির তদন্ত ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক শুনানি করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে নর্থ সাউথ   বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম এনামুল হক, বুয়েটের প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুর রউফ এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস-এর সাবেক কোষাধ্যক্ষ অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডোর এম আবদুস সালাম আজাদের নাম প্রস্তাব করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি সার সংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। সেই সার সংক্ষেপের নথি প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করার পর তিনি অধ্যাপক ড. এম এনামুল হকের নামের পাশে টিক চিহ্ন দেন। পরে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য নথিটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর প্রস্তুতি পর্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অফিস সহকারী ফাতেমার কাছে এলে এম আবদুস সালাম আজাদ অনুমোদন পাননি বলে গোপনীয় তথ্য ফোনে ছাত্রলীগ নেতা তরিকুলকে জানিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেই নথি ঘষামাজা করে সেখানে এনামুল হকের পরিবর্তে সালাম আজাদের নামের পাশে টিক চিহ্ন দেয় আসামিরা। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তদন্ত করছে দুদক।