মাহবুব আলম
যেকোনো সম্পর্কের মধ্যে তৃতীয় কোনো মানুষের অবস্থান তাদের সম্পর্কের ভীত নাড়িয়ে দেয়; এলোমেলো করে দেয় সবকিছু। বন্ধুত্বের নামেও সেই রকমটা ঘটতে পারে। তবে এই তৃতীয় মানুষের আগমনেরও যে যথেষ্ট কারণ থাকে সেটাও অলক্ষ্যে লক্ষ্য করা যায়। তৃতীয় ব্যক্তির কারণে নষ্ট হওয়া সেরকম এক দাম্পত্য জীবনের গল্প নিয়ে দৃষ্টিপাত নাট্যদলের নতুন নাটক ‘সে এক স্বপ্নের রাত’। করোনাকালে বাংলাদেশের মঞ্চে নাটকটি রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন ড. তামজি নূর। নাট্যকার নাটকের গল্পে বেশ পরিপাটিভাবে তুলে ধরেছেন বর্তমান সমাজের পুরুষতান্ত্রিকতাকে। তবে প্রেমের কাছে যেকোনো পরিস্থিতি যে তুচ্ছাতিতুচ্ছ সেটিও নাটকের বড় একটি দিক।
২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ মঞ্চে নাটকটির তৃতীয় প্রদর্শনী হয়ে গেলো। নাট্যকার নির্দেশক তামজি নূর মূখ্য অভিনেতা হিসেবেও আবির্ভূত হয়েছেন। সেখানে তার এবং অন্যান্য অভিনেতাদের অভিনয় দর্শককে মুগ্ধ করে। কিন্তু নাটকের মাঝে দৃশ্যান্তরে যে আলো নেভানোর কাল সেই সময়টাতে মনে হয় দীর্ঘ। গল্প বেশ চমত্কার। একেবারে সমসাময়িক ঘটনা সাজিয়ে গুছিয়ে নাট্যকার হাজির করেছেন, তবে নাটকের মাঝে বারবারই মনে হচ্ছিল— একই কথা ঘুরে ফিরে বলা হচ্ছে। যে দৃশ্য সামান্যে শেষ কার সম্ভব সেটা মনে হয় জোর করে টেনে বড় করা হচ্ছে। সেটা ঘটেছে নাটকের মাঝে পত্রিকার সম্পাদক ও লেখকের কথপোকথনের মধ্যে এবং লেখক যখন তার স্ত্রীর সঙ্গে বিবাদে যায় সেই সময়টাতেও। আবার নাটকে পুলিশের হঠাত্ উপস্থিতি আরো খানিকটা বিব্রত করে। বুঝে উঠতে সময় লাগে যে তাদের সঙ্গে নাটকের সম্পর্ক কী? নাট্যকার ভেবে দেখতেই পারেন তাদের আদৌ কোনো প্রয়োজন আছে কি-না? তবে একজন দর্শক হিসেবে মনে হয়েছে পুলিশের এই উপস্থিতি না থাকা গল্পের প্রবাহকে আরো গতিময় করে তুলত।
নাটকে ডিসির পোস্টিং নিয়ে বেশ খটকা লাগে। সেখানে বলা হচ্ছে যে তিনি নিজ জেলায় পোস্টিং নিয়ে এসেছেন। কিন্তু সরকারি চাকরির পরিপত্র অনুযায়ী বাংলাদেশে ডিসি বা জেলা প্রশাসক নিজ জেলায় পোস্টিং পেতে পারেন না।
প্রত্যেকের চমত্কার অভিনয়ের পাশাপাশি নাটকের সেট ও লাইটের ডিজাইন বেশ দৃষ্টিনন্দন হয়েছে।
নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ড. তাজমি নূর, আব্দুল হালিম আজিজ, অধরা প্রিয়া, রফিকুল ইসলাম, মতিউর রহমান বাচ্চু, এসএম শাফায়েত।
