বাইডেনকে ২৫০০ সেনা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:২৪

আফগানিস্তান নিয়ে কংগ্রেসের শুনানিতে জেনারেল মার্ক মিলি ও জেনারেল ম্যাককেনজি

বিবিসি

আফগানিস্তান থেকে সব সেনা প্রত্যাহার না করে দেশটিতে আড়াই হাজার সেনা রেখে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন দুই শীর্ষ মার্কিন জেনারেল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে জেনারেল মার্ক মিলি ও জেনারেল ফ্রাঙ্ক ম্যাককেনজি যে সাক্ষ্য দিয়েছেন, তার সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ভাষ্যের অমিল পাওয়া যাচ্ছে। বাইডেন এর আগে বলেছিলেন, আফগানিস্তানে সৈন্য রেখে দেওয়ার কোনো পরামর্শের কথা তিনি মনে করতে পারছেন না।

জেনারেল ম্যাককেনজি ও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন মঙ্গলবার সিনেটর আর্মড সার্ভিস কমিটির জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান হিসেবে আফগানিস্তান থেকে সেনা ও নাগরিক প্রত্যাহার কার্যক্রম তদারক করা জেনারেল ম্যাককেনজি রিপাবলিকান সিনেটরদের প্রশ্নের জবাবে জানান, তিনি আফগানিস্তানে ২ হাজার ৫০০ সেনার ছোট একটি দল রেখে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তার এ কথার সঙ্গে বাইডেনের ভাষ্যের মিল পাওয়া যাচ্ছে না। ১৯ আগস্ট এবিসির এক সাংবাদিককে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, আফগানিস্তানে সৈন্য রাখার কোনো পরামর্শের কথা তিনি স্মরণ করতে পারছেন না। জেনারেল মিলি বলেছেন, ম্যাককেনজির ঐ পরামর্শের সঙ্গে তিনিও একমত ছিলেন। ‘তাহলে প্রেসিডেন্ট কি মিথ্যা বলেছেন,’ আলাস্কার রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভানের এই প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর দেননি ম্যাককেনজি।

পরে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র জেন সাকি। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সামরিক বাহিনী ও জয়েন্ট চিফসের এ ধরনের খোলামেলা পরামর্শকে মূল্য দেন। তার মানে এই নয় যে, তিনি সব সময় সেসব পরামর্শের সঙ্গে একমত হন।’ সাকি বলেন, আগস্টের সময়সীমার পরও যদি মার্কিন বাহিনী আফগানিস্তানে থাকত, তাহলে এখন তালেবানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ চলত।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে আল-কায়েদার হামলার পর ঐ বছরের শেষ প্রান্তে মার্কিন বাহিনী আফগানিস্তানে ঢুকেছিল; ২০ বছর পর সৈন্য প্রত্যাহারের আগ পর্যন্ত দেশটিতে তারা লাখো সৈন্য মোতায়েন করেছে, খরচ করেছে প্রায় ৯৮৫ বিলিয়ন ডলার। ২০১১ সালের এক পর্যায়ে আফগানিস্তানে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১০ হাজার, সেটাই ছিল সর্বোচ্চ। কাবুলের পতন ও ৩১ আগস্ট সৈন্য প্রত্যাহারের সময়সীমার মধ্যে কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র তাদের শেষ ৪ হাজার সেনা প্রত্যাহার করে নেয়।