অক্টোবরের মাঝামাঝি শুরু হচ্ছে কারখানা পরিদর্শন

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:০৯

বিডায় সেফটি সেল গঠনের আহ্বান এফবিসিসিআইয়ের

ইত্তেফাক রিপোর্ট

কারখানার নিরাপত্তাজনিত বিষয়ে অনেকগুলো সংস্থার কাছ থেকে লাইসেন্স নিতে হয়। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে (বিডা) সেফটি সেল স্থাপনের মাধ্যমে ওয়ান স্টপ সেবা পেলে উদ্যোক্তাদের হয়রানি কমবে বলে উল্লেখ করেছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। অক্টোবরে শুরু হওয়া কারখানা পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমে সব ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি। গতকাল বুধবার এফবিসিসিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সকল শিল্প-কারখানা পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শন পদ্ধতি ও চেকলিস্টের ওপর ব্রিফিংয়ে তিনি ভিডিও বার্তায় এ কথা বলেন।

উল্লেখ্য, শিল্প-কারখানা পর্যবেক্ষণ কারখানা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের নেতৃত্বে ২৪ সদস্যের জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি খাতের সমন্বিত পরিদর্শন কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে মোট ৪৬ হাজার ১০০টি কারখানাকে। তবে প্রথম তিন মাসে ৫ হাজার কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে। পর্যবেক্ষণে যাওয়ার তিন দিন আগে সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে জানানো হবে। অক্টোবরের মাঝামাঝি শুরু হচ্ছে কারখানা পর্যবেক্ষণ।

গতকালকের অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআইর সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, সংস্কার কার্যক্রমে কিছুটা অর্থ ব্যয় হলেও, তার সুফল পাচ্ছে দেশের রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্প। দেশের অন্য শিল্পখাতকেও নিরাপদ করতে বিডার সঙ্গে এই উদ্যোগে যৌথভাবে কাজ করছে এফবিসিসিআই। তিনি বলেন, কারখানায় দুর্ঘটনা হলেই মালিকদের দোষারোপ করা হয়। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে যেসব সংস্থা লাইসেন্স দিয়ে থাকে তাদেরকেও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। নিমতলীর অগ্নিদুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, আলাদা কেমিক্যাল পল্লি গঠিত হলে, চুড়িহাট্টায় আগুনের দুর্ঘটনা ঘটত না। পোশাকশিল্পের মতোই অন্য খাতগুলোকেও নিরাপদ করে তুলতে দেশব্যাপী পরিদর্শন কার্যক্রমে এফবিসিসিআইর সদস্যভুক্ত ৮০টি চেম্বার ও ৪০৬টি অ্যাসোসিয়েশন সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআইর সহসভাপতি এম এ মোমেন। তিনি বলেন, পরিদর্শনের চেকলিস্ট দেখে উদ্যোক্তাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। শিল্পমালিকদের সহায়তা করার জন্যই এই উদ্যোগে অংশীদার হয়েছে এফবিসিসিআই। এই পদক্ষেপ সফল হলে, তৈরি পোশাকের মতোই দেশের সব শিল্প নিরাপদ হবে। যা বিদেশে বাংলাদেশের সুনাম বাড়াবে, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সহায়ক হবে।

এর আগে অনুষ্ঠানে অনলাইনে অংশ নিয়ে বিডার নির্বাহী সদস্য অভিজিত্ চৌধুরী উদ্যোক্তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, এই পরিদর্শনের কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিয়ে সচেতনতা তৈরি করা। কোনোভাবেই কাউকে হয়রানি করা হবে না। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুলফিকার রহমান জানান, এই কর্মসূচির মাধ্যমে কোনো ব্যবসায়ীকে ধরা হবে না। বরং পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে কারখানাগুলোকে নিরাপদ করতে উদ্যোক্তা, অ্যাসোসিয়েশন এবং সরকারি পর্যায়ে খাতভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।