বৃক্ষ রোপণে পিছিয়ে, কর্তনে এগিয়ে

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:১৯

করোনা অতিমারির কারণে এ বছর বৃক্ষ রোপণের মৌসুমে গাছের চারা রোপণে ভাটা পড়েছে। আমরা বৃক্ষ রোপণে পিছিয়ে থাকলেও কর্তনে এগিয়ে আছি। সরকারিভাবে বৃক্ষরোপণের হিসাব থাকে; কিন্তু বৃক্ষ নিধনের খবর থাকে না বা রাখেন না কেউ। প্রতি বছর বর্ষা এলেই পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের কর্তারা বেশ তত্পর হয়ে ওঠেন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে। কিন্তু রোপিত গাছ কতদিন বেঁচে থাকল, তা নিয়ে কারো মাথাব্যথা নেই! বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর এক গবেষণায় উঠে এসেছে, বৃক্ষরোপণ প্রজেক্টে  মোটা অঙ্কের বাজেট আছে। এজন্য এ কাজে কর্মকর্তাদের তোড়জোড় দেখা যায়। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণে টাকার বরাদ্দ না থাকায় আগ্রহই নেই তাদের। একইভাবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করলেও তার রক্ষণাবেক্ষণে কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ২০২০ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত ২ লাখ ৮৭ হাজার ৪৫২ একর বনভূমি অবৈধ দখলদারদের হাতে চলে গেছে। এখন সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো গাছ কাটার প্রতিযোগিতায় নেমেছে! ড্রেন করবে তাই গাছ কাটছে—রামেক। ডালপালা ভেঙে মাথায় পড়বে তাই গাছ কাটছে—ঢাবি। ভবন নির্মাণ করবে তাই গাছ কাটছে—রুয়েট। শুধু ঢাবি, রামেক বা রুয়েট কেন—দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একইভাবে গাছ কাটার মহোত্সব চলছে। যশোরের অভয়নগর উপজেলার সিদ্দিপাশা ইউনিয়নে বিগত কয়েক বছর ধরে চলছে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির কারখানা। প্রশাসনের অভিযানে কিছুদিন বন্ধ থাকার পর অদৃশ্য শক্তির ইশারায় আবারো চালু হয়ে যায় গাছ পুড়িয়ে কয়লা বানানোর তুঘলকি কাণ্ড। অপ্রয়োজনে বৃক্ষ নিধন বন্ধ হোক। সবুজে ভরে উঠুক দেশ।

বিলাল মাহিনী, প্রভাষক, গাজীপুর রউফিয়া কামিল মাদরাসা, যশোর