স্বরূপকাঠি বিসিকে গড়ে ওঠেনি আধুনিক শিল্প

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৩২

নাসিম আলী, পিরোজপুর অফিস ও হালিমুর রহমান শাহিন, স্বরূপকাঠি সংবাদদাতা

প্রতিষ্ঠার পাঁচ যুগেও পিরোজপুরের নেছারাবাদে (স্বরূপকাঠি) কৌরিখাড়া বিসিক শিল্প নগরীতে আধুনিক কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। এখানে চালু অধিকাংশ শিল্প ইউনিট কাঠজাত কাঁচামাল নির্ভর বলে এ ক্ষুদ্র শিল্প নগরীটির চরিত্র সেকেলে রয়ে গেছে। উপরন্তু এ শিল্প নগরীর মধ্যে কোথাও কোথাও অবৈধভাবে আবাসিক ঘরবাড়ি গড়ে উঠেছে।

পিরোজপুর জেলার একমাত্র বিসিক শিল্পনগরীর ইতিবৃৃৃত্ত খুঁজলে দেখা যায়, ষাটের দশকে উপজেলা ও সন্নিহিত এলাকার নারিকেলের ছোবড়া দিয়ে রশি (স্থানীয় ভাষায় কাতরার দড়ি) তৈরি হতো এবং ঐ সমস্ত তৈরিকৃত রশির চাহিদা দিন দিন বাড়তে থাকে। এ ছোবড়া  শিল্পের প্রসারের লক্ষ্যে তত্কালীন স্থানীয় কয়েক জন শিল্প উদ্যোক্তার আগ্রহ ও সরকারের প্রচেষ্টায় ১৯৬১ সালে  উপজেলার কৌড়িখাড়ায় ২৪.৭৪ একর  জমির ওপর এ বিসিক শিল্প নগরী প্রতিষ্ঠিত হয়। শিল্প নগরীতে ছোবড়া দিয়ে তৈরিকৃত রশি দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং পরবর্তীতে পশ্চিম পাকিস্তানেও চালান হতো।

বিসিক শিল্প নগরী অফিস সুত্রে জানা গেছে, এ শিল্প নগরীতে মোট ১৬৯টি প্লট  রয়েছে। ১০৮টি শিল্প ইউনিটের বিপরীতে প্ল­­ট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত এর চালু রয়েছে ৮৯টি শিল্প ইউনিট, বাস্তবায়নাধীন ১৫টি এবং বন্ধ রয়েছে চারটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। বাকি এক তৃতীয়াংশের বেশি প্লট খালি পড়ে আছে। সরেজমিন বিসিক শিল্প নগরী ঘুরে দেখা গেছে, কাঠজাত শিল্প ইউনিটের সংখ্যা ৫১টি বাকি ৩৮টির মধ্যে আয়ুর্বেদিক ওষুধ, ­প্লাষ্টিক ও নাইলনের রশি, স্টিলের আসবাবপত্র, মিনি গার্মেন্টস, স্যানিটারি রিং-স্লাব, প্লাষ্টিক রিসাইক্লিং, বেকারি ছাড়া আর উল্লেখযোগ্য কোন ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠান নেই এখানে। যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান এখনো চালু আছে সেগুলোতে রয়েছে অভ্যন্তরীণ নানা সমস্যা। শিল্প নগরীর কয়েকজন উদ্যোক্তা জানান, মূলধন, যোগাযোগ, পানি সংকটের কারণে এ শিল্প নগরীর এখন বেহাল দশা। অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।  প্রতিষ্ঠার পর থেকে  বিভিন্ন সমস্যার কারণে এ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেছে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান। যার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ, আইসক্রিম ফ্যাক্টরি, জুতা, রাইস মিল, জেলি ও বাল্ব প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। ন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং স মিল অ্যান্ড ট্রলির মালিক  মো. জুবায়ের উজ্জল জানান, সংরক্ষিত এলাকায় বসতবাড়ি বানানো হয়েছে ।

বাউন্ডারি ওয়াল না থাকায় বিঘ্নিত হচ্ছে শিল্প নগরীর নিরাপত্তা। সন্ধ্যানদীতে একটি ব্রিজের অভাবে এ শিল্প নগরী থেকে দেশের কোনো স্থানের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের ব্যবস্থা নেই। নেই মালামাল লোড আনলোড করার জন্য ল্যান্ডিং জেটি। অভ্যন্তরীণ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা প্রায় ৩৫ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এক সময় বিসিকের নিজস্ব জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুত্ সরবরাহ ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু প্রায় ৪০ বছর যাবত্ নিজস্ব জেনারেটর না থাকায় বিদ্যুতের লোডশেডিংসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে শিল্প  উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে শিল্প মালিকরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। শিল্প মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া আয়ুর্বেদ ঔষাধালয় ও মিজান কেমিক্যাল ইন্ড্রাস্ট্রিজের পরিচালক মো. জাকির হোসেন জানান, শিল্প মালিকরা তেমন কোনো সুযোগ সুবিধা না পেলেও বছর শেষে প্রতি বর্গফুটে ১.৫০ টাকা হারে সার্ভিস চার্জ গুনতে হয় শিল্প মালিকদের।

শিল্প উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সমস্যা  সম্পর্কে কৌরিখাড়া বিসিক শিল্পনগরী কর্মকর্তা মো. শাহীদুর রহমান ইত্তেফাককে জানান, ল্যান্ডিং জেটি স্থাপন, অভ্যন্তরীণ সড়ক, ড্রেনেজের সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। ওভারহেড পানির ট্যাকেংর সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে, পাম্প হাউজ নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নির্মাণকাজ শেষ হলে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। বাউন্ডারি ওয়াল ও খাল খননের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে  অবহিত করা হয়েছে। বসতঘর স্থাপনের ব্যাপারে তিনি বলেন সাত/আটটি আবাসিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।