মিরসরাইয়ে ২৯ বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৩৪

৯৫ সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

মিরসরাইয়ে ১৯১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৯টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। এছাড়া পাঁচ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও ৯৫ জন সহকারী শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। উপজেলা শিক্ষা অফিসের অফিস সহায়ক কাম কম্পিউটার অপারেটরের দুটি পদ ও উচ্চমান সহকারী পদও খালি রয়েছে। ৪৯টি বিদ্যালয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়নি দপ্তরি কাম প্রহরী। এ অবস্থায় উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও মিরসরাই পৌরসভার মধ্যে ১৯১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রথম শ্রেণির বারইয়ারহাট পৌরসভায় কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে ৯টি ক্লাস্টারে ভাগ করা হয়েছে। ক্লাস্টারগুলো হলো করেরহাট, চিনকির আস্তানা, জোরারগঞ্জ, বামনসুন্দর, ঝুলনপোল, রঘুনাথপুর, মিরসরাই সদর, আবুতোরাব ও সরকারহাট। প্রত্যেক ক্লাস্টারে একজন করে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনের নিয়ম থাকলেও নয়টি ক্লাস্টারের জন্য রয়েছে মাত্র চার জন। পাঁচ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদ খালি রয়েছে।

উপজেলার পশ্চিম অলিনগর আমজাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাছিমা আক্তার জানান, তাদের বিদ্যালয়ে ২১৪ জন শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক মাত্র চার জন। তাই পাঠদানে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। চিনকি আস্তানা ও সরকারহাট ক্লাস্টারের দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আবু তোয়াব মজুমদার বলেন, আমি দুটি ক্লাস্টারের অধীনে ৫০টি বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করি। এতগুলো বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। উল্লেখ্য, ২১টি বিদ্যালয় একটি ক্লাস্টারের অধীনে রাখা হয়েছে। এসব ক্লাস্টার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তারা নিয়ন্ত্রণ করেন।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রহমান চৌধুরী বলেন, সংকট থাকায় চার জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা নয়টি ক্লাস্টারের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ২৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক দিয়ে চালানো হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। ৯৫ জন সহকারী শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে। তবে সংকট থাকলেও সুষ্ঠুভাবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।