‘তিন বছরে ২৫০ ইজিবাইক ও অটোরিকশা ছিনতাই’

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:১১

নারায়ণগঞ্জে ছিনতাইকারী চক্রের ছয় সদস্য গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জ সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ও নীলফামারী থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গতকাল বুধবার দুপুরে লিংক রোডের ভুঁইগড়ে পিবিআইয়ের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানানো হয়।

পিবিআই নারায়ণগঞ্জ ইউনিটের পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম জানান, গত ৬ সেপ্টেম্বর ফতুল্লার নরসিংহপুর কাউয়াপাড়াস্থ জাহাঙ্গীরের গ্যারেজ থেকে প্রতিদিনের মতো ব্যাটারিচালিত মিশুক নিয়ে বের হন আব্দুল কুদ্দুস। কিন্তু রাতে তিনি বাসায় না ফেরায় এবং বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তার সন্ধান না পেয়ে তার স্ত্রী রীনা খাতুন ১৮ সেপ্টেম্বর ফতুল্লা মডেল থানায় জিডি করেন। থানা পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই জিডি নিয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে। ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা থাকায় পিবিআইয়ের সহায়তায় রীনা খাতুন অপহরণ মামলা দায়ের করেন। পিবিআই স্ব-উদ্যোগে মামলটির তদন্তভার গ্রহণ করে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত একে একে ছয় জনকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো—শাহ আলম, হালিম, মো. শহিদুল, বাদশা, মো. আসলাম ও মো. মনির। গ্রেফতারের সময় আসামি শাহ আলমের কাছ থেকে ভিকটিম আ. কুদ্দুসের মোবাইল ফোন এবং ছিনতাই কাজে ব্যবহার করা একটি সুইচ গিয়ার চাকু জব্দ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা অটোরিকশা-ইজিবাইক ছিনতাইয়ের অভিনব কৌশলের কথা স্বীকার করে। তাদের ভাষ্যমতে, তাদের মূলত ৮/১০ জনের একটি গ্রুপ নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় অটোরিকশা-ইজিবাইক, অটোমিশুক ছিনতাই করে। ৩টি পদ্ধতিতে তারা তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। তারা সাহেব-দাড়োয়ান অভিনয় করে অটো চুরি করে থাকে।

জিজ্ঞাসাবাদকালে তারা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করে যে, তারা তিন বছরে আনুমানিক ২৫০টি ইজিবাইক এবং অটোরিকশা ছিনতাই করেছে। তদন্তকালে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় চোরাই ইজিবাইক এবং অটোরিকশার পাঁচটি গ্যারেজের সন্ধান পাওয়া গেছে। ঐ গ্যারেজগুলোতে অতিদ্রুতই অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। মামলার ভিকটিম আব্দুল কুদ্দুসকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।