ক্রয় কমিটির বৈঠকে সাত প্রস্তাব অনুমোদন

কোম্পানি একীভূত হওয়ার আইনের খসড়া তৈরি করা হয়েছে :অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:১২

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, কোম্পানি একীভূত হওয়ার জন্য মার্জার আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। এখন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। এই আইন অনুমোদনের পর একীভূত হওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে। গত মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। বেসরকারি পদ্মা ব্যাংক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হওয়ার যে প্রস্তাব দিয়েছে, সে বিষয়ে সরকারি অবস্থান জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি এখনো এ ধরনের আবেদন পাইনি। মার্জার আইন হওয়ার পর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এর মালিকানা কাঠামোতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো জড়িত আছে। সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) জড়িত আছে। ব্যাংকটিতে যারা শেয়ারহোল্ডার, তাদের স্বার্থ দেখা হবে। ব্যাংকটি যেন বন্ধ না হয়ে যায়, সে কারণেই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে একে সহযোগিতা করা হয়েছিল। অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, যারা এর পর্ষদে ছিলেন, তারা ব্যাংকটি ভালোভাবে চালাতে পারেননি। আর এখনো জানতে পারিনি ব্যাংকটিতে কতটা দুর্নীতি হয়েছে। তবে অন্যায় যারা করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তাদের অনেকে জেলে আছেন। এ ছাড়া সরকারের আর কী করার আছে?’ পদ্মা ব্যাংক বিদেশি বিনিয়োগ পেতে যাচ্ছে, এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সবাই তো চেষ্টা করতে পারে বিদেশ থেকে টাকা আনার জন্য। বিদেশিরা যদি পদ্মা ব্যাংকের ব্যালেন্সশিট দেখে মনে করে বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত, তারা বিনিয়োগ করবে।’

গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে পানামাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সোলার বিদ্যুত্ ক্রয় চুক্তির অনুমোদন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘পানামা পেপারস আর পানামা এক নয়। আমরা খোঁজ-খবর নিয়েছি। তাছাড়া পাওয়ার প্ল্যান্টটিতে সরকারের কোনো বিনিয়োগ নেই। এখানে তাদের সঙ্গে যে চুক্তি তা হলো, তারা বিদ্যুত্ উত্পাদন করবে, তারপর সরকার তা কিনে নেবে। সরকার এখানে কোনো অর্থায়ন করছে না।’

মঙ্গলবার অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে একটি প্রস্তাব ও সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সাতটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক রাশিয়ান ফেডারেশন থেকে জি টু জি ভিত্তিতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১ লাখ মেট্রিক টন গম ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সাতটি প্রস্তাবের মধ্যে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) সার ক্রয়ের চারটি প্রস্তাব রয়েছে। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে কাতার থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে ৩০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ১১৫ কোটি ৫৮ লাখ ২৩ হাজার টাকায় আমদানির প্রস্তাব, কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), বাংলাদেশের কাছ থেকে পঞ্চম লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ১১৯ কোটি ১৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকায় ক্রয়ের প্রস্তাব, সৌদি আরব থেকে রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে ৩০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ১১৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকায় আমদানির প্রস্তাব এবং সৌদি আরব থেকে রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে ষষ্ঠ লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্রিল্ড ইউরিয়া সার ১১৪ কোটি ৩০ লাখ টাকায় আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অন্য প্রস্তাবের মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কর্তৃক ৪০ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল ইন্দোনেশিয়ার প্রতিষ্ঠান থেকে ১৭৪ কোটি ২০ লাখ টাকায় আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ‘কর্ণফুলী নদীর সদরঘাট থেকে বাকলিয়া চর পর্যন্ত বর্জ্য অপসারণ ও ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা বৃদ্ধি’ প্রকল্পের ভেরিয়েশন বাবদ অতিরিক্ত ৫৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সভায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) কর্তৃক কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ কাজের বাস্তবায়ন তদারকির জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে ৫৯ কোটি ৩৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকায় নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।