সাক্ষী ফরিদুল বললেন

মিথ্যা মামলায় নির্যাতন ও টাকা নিয়ে ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যা করে ওসি প্রদীপ

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৩৬

মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানের নামে নানা অপকর্মের তথ্যবহুল সংবাদ পরিবেশন করার জের ধরে ওসি প্রদীপ মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে রিমান্ডের নামে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান। পাশাপাশি ইচ্ছেমতো যাকে তাকে ধরে নিয়ে ‘ক্রসফায়ারের’ ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতানোর পরও অনেককে নির্বিচারে হত্যা করেন ওসি প্রদীপ। সিনহা হত্যা মামলার ১৮তম সাক্ষী সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খান বুধবার আদালতকে এমন সাক্ষ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মামলার সংশ্লিষ্ট একাধিক আইনজীবী।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রমের চতুর্থ দফার দ্বিতীয় দিনে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে সাক্ষ্য দেন তিনি। তিনি ছাড়াও বুধবার টেকনাফ হোয়াইক্যংয়ের সালেহ আহমদ ও বেবী বেগমের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে আদালত।

এর আগে বুধবার সকালে সিনহা হত্যা মামলার সাক্ষী টেকনাফ সদরের সাবেক ইউপি সদস্য হামজালালের মুলতবি জেরা শুরুর মধ্য দিয়ে আদালতের বিচারকাজ শুরু হয়। ২০তম সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন করে আগামী ১০, ১১ ও ১২ অক্টোবর পরবর্তী সাক্ষ্যের দিন ধার্য্য করে সন্ধ্যা ৭টায় আদালত মুলতবি ঘোষণা করেন।

সাক্ষী সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খানের বরাত দিয়ে আইনজীবীরা জানান, ২০১৯ সালের ২৪ জুন থেকে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন অনলাইনে মাদক ও ওসি প্রদীপের নানা অপকাণ্ড নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করেন সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খান। সেসব সংবাদে ওসি প্রদীপের অনেক কুকীর্তির কথা উঠে আসে। এতে ওসি প্রদীপ ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিক ফরিদকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোসহ প্রাণনাশের হুমকি দেন। ওসি প্রদীপের হুমকিতে ফরিদ ঢাকায় আত্মগোপন করেন। কিন্তু সেখান থেকে ওসি প্রদীপ কথিত কিছু সিআইডি সদস্যদের সহযোগিতায় তাকে আটক করে টেকনাফ নিয়ে যান। এরপর তাকে নিয়ে কক্সবাজার শহরের কুতুবদিয়া পাড়ায় ফরিদের বাসায় অভিযানের নাটক চালায় প্রদীপ বাহিনী। এসময় ৪ হাজার ইয়াবা, একটি নতুন এলজি ও কার্তুজসহ আটক দেখানো হয়। ঐ মামলায় রিমান্ডের নামে ওসি প্রদীপ বাহিনী ফরিদকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালায়। পরে মেজর সিনহা কক্সবাজার এসে ফরিদুল মোস্তফা খানের সঙ্গে কারাগারে দেখা করার প্রোগাম করে। কিন্তু বিষয়টি জেনে যান ওসি প্রদীপ। তার কুকীর্তির কথা যেন মেজর সিনহা জানতে না পারে এবং ডকুমেন্টারি তৈরি করতে না পারে সেজন্য মেজর সিনহাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ওসি প্রদীপ বাহিনী।