দেশের অর্থনীতির জীবনীশক্তি হলো রপ্তানি। তবে দেশের প্রধান বিমানবন্দরে কার্গো ব্যবস্থাপনা ঠিক না থাকায় রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। রপ্তানির ক্ষেত্রে পণ্য স্ক্যান করা বাধ্যতামূলক হলেও বিমানবন্দরের সবগুলো স্ক্যান মেশিন নষ্ট। এতে একদিকে যেমন রপ্তানিকারকদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে অন্যদিকে দেশের মর্যাদা নষ্ট হচ্ছে। আর অনেক ক্ষেত্রেই পণ্য কলকাতা বিমানবন্দরে নিয়ে সেখানে স্ক্যান করে পরে বিদেশ পাঠানো লাগছে। এতে বাড়তি অর্থও ব্যয় করতে হচ্ছে রপ্তানিকারকদের।
গতকাল বুধবার বিকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় বিমানবন্দরে কার্গো ভিলেজের নতুন দুটি এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন স্ক্যানার (ইডিএস) ছয় মাসেও চালু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
সালমান এফ রহমান বলেন, দুটি নতুন ইডিএস যন্ত্র গত মার্চে স্থাপন করা হলেও চালু হয়নি। তিনি বলেন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কর্মকর্তারা বলছেন, যন্ত্র দুটির ভেলিডেশন (যাচাই) না হওয়ায় অপারেশন বা কার্যক্রম শুরু হয়নি। করোনার কারণে বিদেশ থেকে লোক না আসায় কাজটি করা যায়নি। সালমান এফ রহমান মনে করেন, ‘এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। করোনার মধ্যে আমরা ৫ শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। মহামারির মধ্যে অন্যরা কাজ করে এ প্রবৃদ্ধি করতে পারলে কেন ছয় মাসেও ইডিএস মেশিন চালু হবে না?’ এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে সালমান এফ রহমান বলেন, মেশিন চালু না হওয়ার পেছনে গাফিলতি আছে। এটি দুঃখজনক। তিনি বলেন, বেবিচকের কর্মকর্তারা বলছেন, যন্ত্র যাচাইয়ের জন্য মধ্য অক্টোবরে বিদেশ থেকে লোক আসবে। নভেম্বরে যন্ত্র দুটি চালু হবে। আর নষ্ট দুই যন্ত্রের খুচরা যন্ত্রাংশ নেই। সাত দিনের আগে এগুলো ঠিক হবে না।
সালমান এফ রহমান বলেন, ‘চীনে বিদ্যুত্সংকটের কারণে অনেক বস্ত্রকল বন্ধ। সামনে তাদের নববর্ষ। আবার ভিয়েতনামে করোনার কারণে কারখানা বন্ধ। ফলে আমাদের কাছে অনেক ক্রয়াদেশ আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আবার বড়দিন যত এগিয়ে আসবে, ততই কার্গোর ওপর চাপ বাড়বে। ইডিএস ঠিক না হলে চলমান ক্রয়াদেশের পণ্য পাঠানো সম্ভব হবে না, বাড়তি ব্যবসাও আমরা নিতে পারব না।
কার্গো ভিলেজের সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করার কথা জানান সালমান এফ রহমান। তিনি আরো বলেন, ‘আমি সিরিয়াস মিটিং করব, কারণ রপ্তানি আমাদের অর্থনীতির প্রাণ। বিদেশি ক্রেতারা বলছেন, বিমানবন্দরে এত সময় লাগলে তারা কীভাবে বাড়তি ব্যবসা দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের ওপর ভরসা করবেন।’
পরিদর্শনের সময় আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান, এফবিসিসিআই ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান সিনহা, বর্তমান কমিটির সহসভাপতি নজরুল ইসলাম ও শহিদউল্লাহ আজিম উপস্থিত ছিলেন।
