ফাহিমা জেমির পথচলা

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৩৯

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে আমরা এখন নতুন এক পেশার সাথে এখন বেশ পরিচিত। যাকে বলা হচ্ছে 'সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার'। বলা হয়ে থাকে, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে জনপ্রিয় মানুষেরা চাইলেই এই কাজ করে বাড়তি আয় করতে পারেন। বর্তমান সময়ে এর চলও অনেক, কারণ হিসেবে দেখা গিয়েছে- ফেসবুকে প্রায় প্রতিটি নামীদামি প্রতিষ্ঠানই তাদের বিক্রয়-বাট্টা বাড়াতে লাইভ করছে, লাইভটি যদি জনপ্রিয় কেউ করেন আর তার পেজেও শেয়ার দেন— মুহূর্তেই তা সরাসরি পৌঁছে যায় অনেক মানুষের কাছে। ফাহিমা ইয়াসমিন জেমি তেমনি একজন।

এই উদ্যোক্তা বিউটি ও ফ্যাশন জগতে পা রাখেন তার শুভাকাঙ্ক্ষী বড় ভাইয়ের পরামর্শে। নিজেকে মানুষের সামনে আরও সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে করেছিলেন এই সকল বিষয়ে নানা কোর্স। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি সুপরিচিত ব্র্যান্ডের সাথে কাজ করেছেন, যেমন- 'শিপন শাড়িজ্' এবং 'মেহজাবিনস বুটিক'। 'কলিজ মার্ট', রাজিয়ার 'হ্যালো বিউটিফুল', 'আরময়ের', 'নুড়ি' ইত্যাদি ব্র্যান্ডে ফ্যাশন এবং এর পাশাপাশি বিউটি ব্লগ নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। আরও কাজ করেছেন 'ইউনিলিভার', 'দারাজ', 'সাবর বাই মাজদুন', 'ডায়মন্ড হাউস' -এর মতো প্রখ্যাত ব্র্যান্ডগুলোর সাথে।

এতসব সফল কাজের বাইরে তিনি একজন সফল ব্যবসায়ীও। গাড়ি  এবং রেস্টুরেন্টের ব্যবসায় উন্নতির শিখরে পৌঁছেছেন এই অল্পবয়সেই। 'সুপারকার সনি কার' এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর তিনি। কোম্পানিটি ভালো মানের রিকন্ডিশন্ড যানবাহন আমদানি করে থাকে। পাশাপাশি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট শ্রেণির রক্ষণাবেক্ষণ করা যানবাহন ক্রয়-বিক্রয় করে থাকে। গাড়ি ক্রয়-বিক্রয় এবং এক্সচেঞ্জের মতো তিনটি সুবিধা প্রদান করছে কোম্পানিটি।

ফাহিমা জেমির আরও একটি উদ্যোগ তার নিজের রেস্টুরেন্ট বায়ার'স। নিজে ড্রেস ডিজাইন এর কাজ ও করেন  জেমিজ্ (Jmez)  নামের ফেসবুক পেজে। ফ্যাশন হাউজটি সাজিয়েছেন নারীদের পছন্দসই নানা পোশাকে নিজের করা ডিজাইনে। তিনি বর্তমানে 'বাংলাশপারস' এবং 'দ্য লাফজ' নামে বিখ্যাত বাংলাদেশী ব্র্যান্ডে মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবেও কাজ করছেন।

ছোটবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও জড়িত ছিলেন তিনি। গানের পাশাপাশি ক্লাসিকাল-ওয়েস্টার্ন নাচের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বাফা এবং ছায়ানট থেকে। তবে, বয়স বাড়লেও গানের প্রতি এখনও একটা ভালোলাগা কাজ করে জেমির। একসঙ্গে সবকিছু সামলে চলেছেন নিপুণভাবে, আগামীর দিনগুলোও কাটাতে চান এমন করেই।

ইত্তেফাক/এসটিএম