বড় ধরনের বিদ্যুৎ সংকটের মুখে চীন। যার প্রভাব উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে ব্যাপকভাবে পড়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণে গুয়াংডং এবং উত্তর পূর্বে হেইলংজিয়াং, জিলিন এবং লিয়াওনিং প্রদেশে আবাসিক এলাকা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোতে অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। বাসিন্দাদের অভিযোগ বাড়িতে হিটিং চলছে না, ভবনের লিফ্ট বন্ধ, এমনকি রাস্তার ট্রাফিক লাইটও ঠিক মতো কাজ করছে না।
কিন্তু কেন চীনের মতো একটি উন্নত দেশে বিদ্যুতের এমন সংকট দেখা দিয়েছে। অবশ্য দেশটিতে আগে-পরেও বিদ্যুৎ সমস্যা ছিল। তবে এবারের মতো সংকট নিকট অতীতে খুব কমই দেখা গেছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চাহিদার সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহের ভারসাম্য রক্ষায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে চীন। যা দেশটির বেশ কয়েকটি প্রদেশকে বিদ্যুৎ ঘাটতির মুখে ফেলেছে। সাধারণত গ্রীষ্মে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ ব্যবহার হয় এবং শীতকালে সমস্যাটি তীব্রতর হয়ে ওঠে। কিন্তু এই বছর বেশ কয়েকটি ইস্যু একসঙ্গে সামনে এসেছে। যার কারণে সমস্যাটি প্রকট আকারে দেখা দিয়েছে।
বিশ্বজুড়ে মহামারির প্রভাব কমে যাওয়ায় সবকিছু আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এমতাবস্থায় চীনা পণ্যের চাহিদাও বেড়েছে। ফলে বিভিন্ন কল-কারখানাগুলোতে কাজের চাপ বাড়ায় অনেক বেশি বিদ্যুৎ শক্তির প্রয়োজন হচ্ছে।
এছাড়া ২০৬০ সালের মধ্যে দেশকে কার্বন নিরপেক্ষ করার প্রচেষ্টায় বেইজিং কর্তৃক আরোপিত নিয়ম কয়লা উৎপাদনকে ধীরগতিতে দেখেছে। যদিও দেশটি এখনো তার অর্ধেকেরও বেশি শক্তির জন্য কয়লার ওপর নির্ভরশীল। বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ায় কয়লার দামও বাড়ানো হয়েছে।
বিদ্যুতের দাম নিয়ন্ত্রণ করছে চীন সরকার। অন্যদিকে, দেশটির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ক্ষতির মুখে কাজ করতে রাজি নয়। যার কারণে উৎপাদন ব্যাপক হারে হ্রাস পেয়েছে। পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে কিছু কিছু এলাকায় হাসপাতাল ও কল-কারখানার মতো জরুরি স্থাপনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক বাসা বাড়িতেও এখন বিদ্যুৎ নেই।
ইত্তেফাক/টিএ

