মধ্যপ্রাচ্যে জনশক্তি রপ্তানি কমলেও বেড়েছে রেমিট্যান্স

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৩৯

দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম রেমিট্যান্স। তবে এখনো পর্যন্ত অল্প কয়েকটি দেশ থেকেই আসছে সিংহভাগ রেমিট্যান্স। আমাদের দেশে রেমিট্যান্স এখনো মধ্যপ্রাচ্য নির্ভর। সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইলে হুন্ডি প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়াকড়ি, ডলারের বিপরীতে বেশি টাকা পাওয়ায় ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় বেড়েছে। এর ধারাবাহিকতায় দেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকেও রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। তবে এ সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে জনশক্তি রপ্তানি কমেছে।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস (বায়রা) সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সৌদি আরব সেদেশে ১২ ধরণের কাজে বিদেশিদের নিষিদ্ধ করেছে। এতে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানি কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে আগের মত কম দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিও কমেছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, বড় প্রকল্পে বাজেট কাট-ছাট এবং অর্থনৈতিক মন্দার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে জনশক্তি রপ্তানি কমেছে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এর তথ্যে দেখা গেছে, ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানি হয়েছে সাত লাখ ৩৪ হাজার ১৮১ জন। গত বছরে জনশক্তি রপ্তানির হয়েছিল ১০ লাখ আট হাজার ৫২৫ জন। সে হিসাবে জনশক্তি রপ্তানি ২৭ শতাংশ কমেছে। এর আগের বছরেও কমে গিয়েছিল জনশক্তি রপ্তানি।

মধ্যপ্রাচ্যে জনশক্তি রপ্তানির এমন খারাপ অবস্থার মধ্যেও এসব দেশ থেকে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে দেখা গেছে, বছরের প্রথম মাস জানুরিতে মধ্যপ্রাচ্যের সাত দেশ থেকে মোট ৯২ কোটি ৬১ লাখ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ এসেছে। যা একক মাস হিসাবে সর্বোচ্চ। আর চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রথম সাত মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে মোট ৯০৮ কোটি ৬১ লাখ ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। এরমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে থাকা প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৫৩৩ কোটি ৭৭ লাখ ডলার। প্রবাসীদের পাঠানোর অর্থের মধ্যে শীর্ষে থাকা ১০ দেশের মধ্যে ৬টিই মধ্যপ্রাচ্যের।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জানুয়ারিতে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে সৌদি আরব থেকে। দেশটি থেকে প্রবাসীরা মোট ২৯ কোটি ৪৯ লাখ ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। যা মোট আহরিত রেমিট্যান্সের সাড়ে ১৮ শতাংশেরও বেশি। রেমিট্যান্স পাঠানোয় শীর্ষ ১০ এর বাকি দেশগুলো হচ্ছে- আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, কুয়েত, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, ওমান, কাতার, ইতালি ও বাহরাইন।

জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স আহরণে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। দেশটি থেকে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২৫ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। এরপর যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ১৭ কোটি ৬৫ লাখ ডলার।

চতুর্থ স্থানে থাকা কুয়েত থেকে এসেছে ১৪ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। যুক্তরাজ্য থেকে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ১২ কোটি ২৮ লাখ ডলার। মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ১০ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। কাতার থেকে এসেছে ৯ কোটি ৬১ লাখ ডলার, ওমান থেকে ৮ কোটি ৯৮ লাখ ডলার, ইতালি থেকে ৮ কোটি ২৪ লাখ ডলার  এবং বাহরাইন থেকে ৪ কোটি ২৪ লাখ ডলার।

এদিকে বিগত বছরে (২০১৮) প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে মোট এক হাজার ৫৫৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২০৪ কোটি ডলার বা প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। এর আগে ২০১৭ সালে এসেছিল এক হাজার ৩৫৩ কোটি ডলার। তার আগের বছর ২০১৬ সালে এসেছিল এক হাজার ৩৬১ কোটি ডলার। ২০১৫ সালে এক হাজার ৫৩১ কোটি ডলার। আর ২০১৪ সালে রেমিটেন্সের পরিমাণ ছিল এক হাজার ৪৯২ কোটি ডলার।