ময়মনসিংহ প্রতিনিধি ও হালুয়াঘাট সংবাদদাতা
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ধ্যা নামতেই ওপারের পাহাড় থেকে খাবারের সন্ধানে নেমে আসে হাতির পাল। তাণ্ডব চালায় ফসলি জমি ও ঘরবাড়িতে। শুরু হয় কৃষকের সঙ্গে হাতির যুদ্ধ। ফসল রক্ষার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শত শত কৃষক টর্চলাইট, লাঠি, মশাল, পটকা ও বাঁশি বাজিয়ে নেমে পড়েন হাতি তাড়াতে।
জানা যায়, সন্ধ্যা নামতেই জামগড়া মহিষলেটি, ধোপাঝুড়ি, কোচপাড়া, রঙ্গমপাড়া এবং কড়ইতলী এলাকায় চলে হাতির তাণ্ডব। হাতির দল স্থানীয় কৃষকদের অন্তত ৪০ একর জমির রোপা আমন ধান খেয়ে এবং পা দিয়ে পিষ্ট করে নষ্ট করে ফেলেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সীমান্তে হাতি মানুষের যুদ্ধ দীর্ঘদিনের। তবে সীমান্তবর্তী ভূবনকুড়া ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে বিগত কয়েক বছর হাতির আক্রমণ খুবই কম ছিল। তবে, এ বছরের বোরো আবাদ এবং কাঁঠাল পাকার মৌসুম থেকে হাতির দল লোকালয়ে চলে আসা নিয়মে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যা হলে দল বেঁধে অন্তত ৫০ থেকে ৭০টি বন্যহাতি খাবারের সন্ধানে চলে আসে লোকালয়ে। এতে আতঙ্কে রাত কাটে সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকদের।
সীমান্তের অন্তত তিন কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় বন্যহাতির দল অবাধে লোকালয়ে প্রবেশ করে। এতে এসব এলাকার মানুষের সব সময় আতঙ্কে দিন কাটে। বোরো এবং আমন মৌসুমে ফসল রক্ষায় পাহাড়ে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয় তাদের। তখন হাতির কবল থেকে ফসল রক্ষা করার জন্য স্থানীয়ভাবে টর্চলাইট, মশাল, পটকা ও বাঁশি বাজিয়ে রাত জেগে পাহারা দিতে হয়। হাতি তাড়ানোর মতো আধুনিক যন্ত্রপাতি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।
সীমান্ত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানায়, এই জমির ফসল আমাদের সারা বছরের চাহিদা পূরণ করে। এ বছর সেই জমির ধান সব নষ্ট করে দিয়েছে। এখন আমরা কীভাবে বছর পার করব। তারা এই সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান করার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম সুরুজ মিয়া জানান, পরিষদের তহবিল থেকে কেরোসিন, টর্চলাইট ও পটকা সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও স্থানীয়দের নিয়ে হাতি তাড়াতে গ্রামে টিম করে দেওয়া হয়েছে। তবে একটি স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, অন্তত ৪০ একর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, অন্যান্য বছরের চাইতে এই বছর হাতির অত্যাচার বেশি। এতে কৃষকদের ক্ষতিও বেশি হচ্ছে। এমন অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য স্থানীয় যু্বকদের দিয়ে হাতি প্রতিরোধ টিম গঠন করা হয়েছে। হাতি তাড়াতে প্রয়োজনীয় টর্চলাইট, লাঠি, মশাল, পটকা ও বাঁশি দেওয়া হয়েছে। এগুলো নিয়ে রাত জেগে কৃষকরা পাহারা দেয় এবং মশাল জ্বালিয়ে, পটকা ফুটিয়ে, বাঁশি বাজিয়ে রাতভর হাতি তাড়ায়। ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হয়েছে। তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে সীমান্তের কিছু এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় অবাধে হাতির পাল নেমে এসে কৃষকের ফসল নষ্ট করে। এই বিষয়টি বিজিবি এবং বন বিভাগ তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
