মূল্যবান যন্ত্রপাতির ব্যবহার নেই

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২১, ২১:১৮

পাবনা চিনিকল বন্ধ

রুমী খোন্দকার, পাবনা প্রতিনিধি

পাবনা চিনিকল বন্ধের কারণে মাড়াই কার্যক্রম না থাকায় পরিচর্যার অভাবে নষ্ট হচ্ছে আখ মাড়াই যন্ত্রসহ মিলের অনেক সম্পদ। আখচাষিরা জানান, টানা লোকসানের দায় নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তে গত বছর রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় চিনিকলের সাথে উত্পাদন বন্ধ হয়ে যায় পাবনা সুগার মিলে। হঠাত্ মাড়াই বন্ধ হওয়ায় সে সময় চুক্তিভুক্ত চাষিদের আখ সংগ্রহ করে নাটোরের নর্থবেঙ্গল সুগার মিলে পাঠায় কর্তৃপক্ষ। চলতি মৌসুমেও মাড়াই বন্ধ থাকায় চুক্তি নবায়ন হয়নি।

পাবনা চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফ উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, পাবনা চিনিকলের অন্তর্গত ১০টি চিনি উত্পাদনের জোন আছে। মিলে মাড়াই বন্ধ থাকায় এ বছর কৃষকদের কথা ভেবে মিলের নিকটবর্তী চারটি আখ উত্পাদন জোন (ঈশ্বরদী, মুলাডুলি, লক্ষ্মীকুন্ডা ও মিলগেট) পাবনার নিকটবর্তী গোপালপুর চিনিকলের সঙ্গে সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। তাই তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।

পাবনা জেলা আখচাষি সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী জানান, এ বছর মাত্র ১৫ বিঘা জমিতে আখ আবাদ করেও বিক্রি নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় আছেন। এদিকে উত্পাদন বন্ধ থাকায় চালু থাকা চিনিকলগুলোতে বদলি করা হয়েছে পাবনা সুগার মিলের কর্মীদের। পরিচর্যার অভাবে নষ্ট হচ্ছে শত কোটি টাকা মূল্যের আখ মাড়াই যন্ত্র। সরেজমিনে পাবনা চিনিকলে গিয়ে দেখা যায়, মরিচা পড়েছে মাড়াই যন্ত্রের বিভিন্ন অংশে। আগাছা আর জঙ্গলে ঢাকা পড়েছে বাইরে ইয়ার্ডে থাকা যন্ত্রপাতি আর দুইশতাধিক ট্রলি। দ্রুত মিল চালু না হলে অচিরেই এসব শতাধিক কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়বে বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, মাড়াই শুরুর কয়েক মাস আগে থেকে যন্ত্রপাতির পরিচর্যা করতে হয়। কিন্তু গত দুই বছর মাড়াই না হওয়ায় কর্মীদের অন্যান্য মিলে সংস্থাপন করায় যন্ত্রপাতির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি।

আধুনিকায়নের মধ্য দিয়ে পুনরায় পাবনা সুগার মিল চালুর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলে জানিয়েছেন মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফ উদ্দিন আহমেদ। এটা বাস্তবায়ন হলে এসব অঞ্চলের আওতাধীন কৃষকরা নির্ধারিত সময়ে চিনিকলে আখ সরবরাহ করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।