নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
কীর্ত্তিকা সেন বিল্টু, নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা
নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সকসহ জনবলসংকটে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। রেডিওলোজিস্টের অভাবে ২০১৮ সালে দেওয়া আধুনিক এক্সরে মেশিনটি এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি।
জানা গেছে, আশির দশকে নাগেশ্বরীতে যাত্রা শুরু করে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। পরবর্তী সময় এটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত তৈরি করা হলেও এখনো তা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়নি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক জন ইউএইচএন্ডএফটিওসহ ৯ জন ডাক্তারের পদের অনুমোদন থাকলেও এক জন জুনিয়ার কনসালট্যান্ট (সার্জারি), এক জন জুনিয়ার কনসালট্যান্ট (মেডিসিন), এক জন জুনিয়র কনসালট্যান্ট (গাইনি), এক জন আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার, দুই জন মেডিক্যাল অফিসারের পদ এখনো শূন্য। মাত্র কয়েকদিন আগে জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অ্যানেস্থেশিয়া) পদে যোগদান করেছেন ডা. জাকির হোসেন। কর্মরত আছেন ইউএইচএন্ডএফটিও পদে ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে ডা. আর্নিকা জাহান মিষ্টি। বাধ্য হয়ে ডাক্তারের এ শূন্যতা পূরণে রায়গঞ্জ ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ডা. রোকেয়া, গাগলা থেকে ডা. সাইফ জামান, মাদারগঞ্জ থেকে ডা. শরিফুল ও ভিতরবন্দ স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ডা. তাহসান সিদ্দিকীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংযুক্ত করে তাদের দিয়ে চালানো হচ্ছে চিকিত্সাসেবা। এদিকে সিনিয়র স্টাফ নার্সের ২৫টির মধ্যে পাঁচটি পদ শূন্য। ফাঁকা রয়েছে সহকারী নার্সের পদ। স্বাস্থ্য সহকারী ৬০টি পদের ২১টি, ফার্মাসিস্টের একটি, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট ল্যাবের দুটি পদ শূন্য রয়েছে। এক জন দিয়ে কোনোমতে চলছে প্যাথলজি বিভাগ। নেই রেডিওলোজিস্ট, স্টোর কিপার, ক্যাশিয়ার, কুক। এছাড়া শূন্য রয়েছে ওয়ার্ডবয়ের দুটি, পরিচ্ছন্নতা কর্মীর দুটি পদ। রেডিওলোজিস্টের অভাবে ২০১৮ সালে দেওয়া আধুনিক এক্সরে মেশিনটি এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে সেটি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, চিকিত্সকসংকটে ইউনিয়ন পর্যায়ে পদায়নকৃত চিকিত্সক এবং সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে সংযুক্ত করে বর্তমানে চিকিত্সাসেবা চালানো হচ্ছে। জনবলসংকট উত্তরণের জন্য মন্ত্রণালয়ে শূন্য পদের তালিকা করে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া জেলা সিভিল সার্জন বরাবর চাহিদা দেওয়া আছে। শূন্য পদে পদায়ন হলে এ সংকট কেটে যাবে।
