নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনার প্রায় সব উপজেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমোদন ছাড়াই বেশ কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক চালু করা হয়েছে। কোনো প্রকার নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ও শহরের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
সরেজমিনে দেখা গেছে, যেখানে সেখানে গড়ে ওঠা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে নানা রকম পরীক্ষার নামে চলছে রমরমা ব্যবসা। আর এসব সেন্টারে যোগ্য টেকনেশিয়ান না থাকলেও তারাই রোগীর নানারকম টেস্ট করছে। লাইসেন্সবিহীন এক ক্লিনিকের মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অনুমোদনের জন্য সিভিল সার্জন অফিসে আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া যাচ্ছে না। লাইসেন্স কবে পাবেন তার ঠিক ঠিকানা না থাকায় লাইসেন্স ছাড়াই তিনি ব্যবসায় নেমে গেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্লিনিকে দায়িত্বরত প্যাথলজিস্ট বলেন, তাদের নিজস্ব কোনো চিকিত্সক নেই, ময়মনসিংহ অথবা ঢাকা থেকে চিকিত্সক এনে রোগীর অপারেশন করা হয়। প্যাথলজি খোলা থাকে, রোগী আসলেই টেস্ট করা হয়।
এদিকে অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ক্লিনিকগুলোর বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ইতিমধ্যে অবৈধভাবে চলা ক্লিনিকের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অনেকেই আবার লাইসেন্সের জন্য আবেদনও করেছেন, লাইসেন্স পাওয়ার জন্য যে দিকনির্দেশনা রয়েছে, তা অনেকেরই নেই। অচিরেই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নেত্রকোনা জেলা সিভিল সার্জন ডা. সোহেল মিয়া বলেন, একটি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপন করতে হলে ট্রেড লাইসেন্স থাকা ছাড়াও কমপক্ষে ৮০০ স্কয়ার ফিট জায়গা থাকতে হবে। এছাড়া প্যাথলজি চিকিত্সকের সম্মতিপত্র, বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের অনুমতিপত্র, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট এবং পরিচ্ছন্ন ল্যাব থাকতে হবে। তারপরই কেবল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে এসব ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু দেখা গেছে অধিকাংশ ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তা নেই। এরপরেও চলছে এসব সেন্টার বা ক্লিনিক। তিনি বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে জেলার সব উপজেলায় অবৈধভাবে চলা ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
