দীর্ঘ লকডাউন শেষে ফের উত্সবের রঙে সেজে উঠেছে শিল্পকলা একাডেমি। শিল্পীদের পরিবেশনা, মঞ্চে নাটকের আলো আর দর্শকদের পদভারে মুখরিত শিল্পকলা একাডেমি। শুরু হয়েছে গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক উত্সব। শিল্পকলার সবকটি মঞ্চে চলছে অনুষ্ঠানে। এ উত্সবের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর প্রাণের সঞ্চার বইছে শিল্পের আঙিনায়। গতকাল শুক্রবার শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হয় ১২ দিনের এই উত্সব।
গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক পর্ষদের আয়োজনে সন্ধ্যায় একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে এই উত্সবের উদ্বোধনীতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি উত্সর্গ করা হয়েছে এবারের উত্সব।
উত্সব আহ্বায়ক গোলাম কুদ্দুছের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর, নাট্যাভিনেতা রামেন্দু মজুমদার, নাসির উদ্দিন ইউসুফ, আতাউর রহমান, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী প্রমুখ।
জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়েই উত্সবের পর্দা উঠে। এরপর বিভিন্ন গানের সমন্বয়ে কোলাজ নৃত্য পরিবেশন করে নাচের দল স্পন্দন। উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে মঞ্চায়ন থিয়েটার (বেইলি রোড) এর ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়। একই সঙ্গে পরীক্ষণ থিয়েটার হলে মঞ্চায়ন হয় আরণ্যক নাট্যদলের নাটক ‘কহে ফেসবুক’ ও স্টুডিও থিয়েটার হলে মঞ্চায়ন হয় ঢাকা জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রযোজিত নাটক ‘জনকের মৃত্যু নেই’।
উদ্বোধনী দিনের সন্ধ্যায় প্রতিটি নাটকেই ছিল দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়। মূল গেটের টিকিট কাউন্টার থেকে দোতলার মিলনায়তন পর্যন্ত ছিল দর্শকদের সারিবদ্ধ লাইন।
সন্ধ্যা ৭টায় মিলনায়তনে নাটক মঞ্চায়ন ছাড়াও প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে উন্মুক্ত মঞ্চ ও নাট্যশালার লবিতে থাকছে পথনাটক, মূকাভিনয়, নৃত্যালেখ্য, সংগীত আবৃত্তি, নৃত্য, ধামাইল গান, গম্ভিরা, বাউল গানসহ নানা সাংস্কৃতিক কার্যক্রম। এবারের উত্সবে অংশ নিচ্ছে সারা দেশের ১৪০টি দলের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার শিল্পী।
উত্সবের দ্বিতীয় দিন আজ শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে মঞ্চায়ন হবে প্রাচ্যনাটের ‘সার্কাস সার্কাস, পরীক্ষণ থিয়েটার হলে সময়ের ‘ভাগের মানুষ’ ও মুন্সীগঞ্জের থিয়েটার সার্কেলের নাটক ‘পঞ্চভূতের রংতামাশা। ১২ অক্টোবর শেষ হবে ১২ দিনের এই উত্সব।
