তানভীর তারেক
তবে কী মাইলস-এ আবারো ভাঙন দেখা দিলো? আবারো কী শাফিন আহমেদকে ছাড়া মাইলস তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। নাকি এটি সাময়িক ঘটনা। এ প্রশ্ন বারবার যেন রহস্যেরই জন্ম দিচ্ছে। তবে এর আগে আলাদাভাবে প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমেই তাদের আলাদা হওয়ার খবর পেয়েছে দর্শক-শ্রোতারা। কিন্তু বিষয়টি এখনো ধোঁয়াশাতেই রয়েছে।
দেশের শীর্ষ ব্যান্ডদল মাইলস চার দশক ধরে সমান জনপ্রিয় হলেও সম্প্রতি একটি কনসার্টে শাফিন আহমেদকে ছাড়াই পারফর্ম করতে দেখা যায় তাদের। এ ব্যাপারে এই প্রতিবেদক শাফিন আহমেদ ও হামিন আহমেদ দু’জনকেই প্রশ্ন করলে কোনোকিছু তারা আপাতত জানাতে চাননি।
এদিকে সর্বশেষ জাগো এফ এম-এর আড্ডায় শাফিন আহমেদ বলেন, ‘আমি নিজেকে বারবার ভাঙতেই চেয়েছি। জীবনের নানারূপ আমি দেখতে চেয়েছি। এখন যেমন নিজের স্টুডিওতে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের কম্পোজিশন তৈরি করার আলাদা আনন্দ পাচ্ছি। এছাড়া লেবেল কোম্পানির বাইরে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে গান করছি।’ তবে ঠিক কোন কারণে এই দূরত্ব তা এখনো স্পষ্ট করেননি কেউ। এমনকি এটা সাময়িক কি-না সেটিও স্পষ্ট নয়। কারণ এর আগে একাধিকবার মাইলস থেকে শাফিন আহমেদ বের হয়ে এসেছেন, পরবর্তীতে আবারো তাকে দেখা গেছে ব্যান্ডে পারফর্ম করতে। তাই এটিও সাময়িক দূরত্ব বলে ভাবছেন অনেকে। এদিকে রাজনীতিতে আগ্রহ বরাবরই শাফিন আহমেদের। মেয়র নির্বাচনেও অংশ নিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে দেশের ব্যান্ড মিউজিকের একমাত্র সংগঠন বামবার নেতৃত্বে রয়েছেন হামিন আহমেদ। একইসঙ্গে শিল্পী-কলাকুশলীদের অধিকার সংরক্ষণের প্রতিষ্ঠান বিএল সিপিএস-এর নেতৃত্বে রয়েছেন তিনি। হামিন আহমেদ দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে শিল্পীদের স্বার্থ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
এদিকে এবারের এই গুঞ্জনটি অন্যান্য বারের তুলনায় খানিক রহস্যে মোড়া। কারণ এবার কেউ কারো বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অভিযোগ আনেননি। এমনকি নিজেদের মিউচুয়াল সম্পর্কের জায়গাটিও ঠিক রেখেছেন। সর্বশেষ মানাম আহমেদের পরিচালনায় চ্যানেল আইয়ের দ্য পিয়ানো লাউঞ্জে শাফিন আহমেদ পারফর্ম করলেন। তাই অনেকটাই দ্বিধান্বিত এই বিষয়টি। কারণ মাইলসের অফিসিয়াল পেজেও এ নিয়ে কোনো স্টেটমেন্ট দেখা যায়নি। উল্লেখ্য, মাইলসকে বরাবরই দেশের একমাত্র কমপ্লিট হ্যান্ড বলা যায়। শীর্ষস্থানীয় অন্যান্য ব্যান্ড দলগুলো ওয়ানম্যান ব্যান্ড হিসেবে জনপ্রিয়তা পেলেও মাইলস এ ধারায় ব্যতিক্রম। যে দলের প্রত্যেক সদস্য স্বমহিমায় আলোকিত। সেই কমপ্লিট ব্যান্ড থেকে কারো বিচ্যুতি হলে তা মাইলস ভক্তদের খানিক মন খারাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই পুরনো মনোমালিন্যের মতো আবারো নিজেদের ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে স্টেজে ফিরবে সকলে। এটাই সকলের প্রত্যাশা।
