সাবাড় করছে চারাগাছ
নাসিম আলী পিরোজপুর অফিস ও শেখ মোহাম্মদ
আলী শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জে মহিষের অবাধ বিচরণ বন্ধ হয়নি। মহিষে গাছপালা সাবাড় করায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বনায়ন। অতি সম্প্রতি সুন্দরবনে মহিষ খুঁজতে গিয়ে নিখোঁজের ১৮ ঘণ্টা পরে উদ্ধার হয়েছে একজন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, বগী ফরেস্ট স্টেশনের অধীন শরণখোলার সাউথখালী ইউনিয়নের বগী, চালিতাবুনিয়া, তেরাবাকা ও পিরোজপুরের মঠবাড়ীয়ার সাপলেজা, নলী এবং বরগুনার পাথরঘাটা, চরদুয়ানী, কাঠালতলীসহ আশ-পাশের অন্য এলাকার বাসিন্দারা তাদের পালিত শত শত মহিষকে ঘাষ খাওয়ানোর জন্য বেপরোয়াভাবে সুন্দরবনের ডুমুরিয়া ও চরখালীর বনে ছেড়ে দিয়ে যায়। মহিষগুলো দিবারাত্রি বনের মধ্যে চরে বেড়ায়। বনে গজিয়ে ওঠা চারাগাছসহ অন্যান্য গাছপালা খেয়ে সাবাড় করছে মহিষ। এতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নতুন বনায়ন। বর্তমানে প্রায় ২০০ মহিষ ডুমুরিয়া থেকে চরখালী হয়ে সুদূর শাপলা টহল ফাঁড়ি পর্যন্ত বিচরণ করছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। শরণখোলার বগী গ্রামের ছালাম চৌকিদারের একটি মহিষ বন থেকে নিয়ে আসার উদ্দেশ্যে একই গ্রামের আ. রহমানসহ আরো তিন/চার জন লোক গত ১৮ আগস্ট দুপুরে ডুমুরিয়ার বনে প্রবেশ করে। মহিষ খোঁজার এক পর্যায়ে আ. রহমান সুন্দরবনের মধ্যে হারিয়ে যায়। পরে সারা রাত গাছে চরে নিখোঁজের ১৮ ঘণ্টা পরে ১৯ আগস্ট সকালে জেলেরা সুন্দরবন থেকে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেয়।
বগী ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা সাদিক মাহমুদ বলেন, গত এক মাসে তিনি নিজে বাদী হয়ে একটি ও চরখালী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাদী হয়ে মহিষ মালিকদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছেন।
এ ব্যাপারে বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. সামসুল আরেফিন বলেন, মহিষ নিয়ে যাওয়ার জন্য মালিকদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং সুন্দরবনে মহিষ বিচরণের ঘটনায় এ পর্যন্ত দুটি মামলা করা হয়েছে।
