মূলধন বাড়ল আরো ১১ হাজার কোটি টাকা

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২১, ২১:৪০

ইত্তেফাক রিপোর্ট

গেল সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার দিনই ঊর্ধ্বমুখী ছিল শেয়ারবাজার। এতে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন বেড়েছে ৪ হাজার কোটি টাকার ওপরে। আর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জসহ (সিএসই) দুই স্টক এক্সচেঞ্জে বাজার মূলধন বেড়েছে ১১ হাজার ২৮২ কোটি টাকা। গতকাল শনিবার সাপ্তাহিক পর্যালোচনায় এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্যমতে, ডিএসইতে গত সপ্তাহের শুরুতে বাজার মূলধন ছিল ৫ লাখ ৭৭ হাজার ৩৬ কোটি ৫৮ লাখ ২৭ হাজার টাকা। সপ্তাহ শেষে তা দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮১ হাজার ৫৪৩ কোটি ১২ লাখ ২৯ হাজার টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে বাজার মূলধন বেড়েছে ৪ হাজার ৫০৬ কোটি ৫৪ লাখ ১ হাজার টাকা।

অন্যদিকে সিএসইতে গত সপ্তাহের শুরুতে বাজার মূলধন ছিল ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৪০০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। সপ্তাহের শেষ দিন তা দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৪ হাজার ১৭৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে মূলধন বেড়েছে ৬ হাজার ৭৭৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা। পুরো পুঁজিবাজারে বাজার মূলধন বেড়েছে ১১ হাজার ২৮২ কোটি টাকা। তথ্যমতে, গেল সপ্তাহের আগের সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছিল ২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। এ হিসাবে টানা দুই সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন বাড়ল ৬ হাজার ৯৬৮ কোটি টাকা। অবশ্য দুই সপ্তাহের এই উত্থানের আগে বাজার মূলধন কমেছিল ১১ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা। এ হিসেবে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা বাজার মূলধন হারানোর পর প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা ফিরে এসেছে।

বাজার মূলধন বাড়া বা কমার অর্থ তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার ও ইউনিটের দাম সম্মিলিতভাবে ঐ পরিমাণ বেড়েছে বা কমেছে। অর্থাত্, বাজার মূলধন বাড়লে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ করা অর্থের পরিমাণ বেড়ে যায়। একইভাবে বাজার মূলধন কমলে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ করা অর্থের পরিমাণ কমে যায়।

গত সপ্তাহ জুড়ে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৪৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২২১টির। আর ১১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে গত সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৭৮ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট বা ১ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ২২ দশমিক ২৯ পয়েন্ট বা দশমিক ৩১ শতাংশ। প্রধান মূল্যসূচকের পাশাপাশি গেল সপ্তাহে বেড়েছে ইসলামি শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচক। গত সপ্তাহ জুড়ে সূচকটি বেড়েছে ১১ দশমিক শূন্য ৪ পয়েন্ট বা দশমিক ৭৫ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ৩ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট বা দশমিক ২৫ শতাংশ।

অন্যদিকে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকও গত সপ্তাহে বেড়েছে। সপ্তাহ জুড়ে এই সূচক বেড়েছে ৩৬ দশমিক ৯৭ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে দশমিক ৯৯ পয়েন্ট বা দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ২২৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ১ হাজার ৯৪১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। অর্থাত্, প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়েছে ২৮৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা বা ১৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ। আর গত সপ্তাহ জুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১১ হাজার ১৪৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ৯ হাজার ৭০৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। সে হিসাবে মোট লেনদেন বেড়েছে ১ হাজার ৪৩৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা বা ১৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

গত সপ্তাহের ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের শেয়ার। সপ্তাহ জুড়ে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৭৪৭ কোটি ৭৫ লাখ ২ হাজার টাকা, যা মোট লেনদেনের ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ওরিয়ন ফার্মার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৫৫৬ কোটি ১৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা। ৪৭৩ কোটি ৯৪ হাজার টাকা লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বেক্সিমকো।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, শাহাজিবাজার পাওয়ার, সাইফ পাওয়ার টেক, লঙ্কা-বাংলা ফাইন্যান্স, জিপিএইচ ইস্পাত, ডেল্টা লাইফ ইনসিওরেন্স এবং বিবিএস কেব্লস। এদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গত সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ৪৫৫ কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৩২৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন বেড়েছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২৩১ পয়েন্ট বেড়ে ২১ হাজার ৩৭৭ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স ১৪৮ পয়েন্ট বেড়ে ১২ হাজার ৮৩৫ পয়েন্টে, সিএসই৩০ সূচক ১৪৬ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৪৭৮ পয়েন্টে, সিএসই ৫০ সূচক ২২ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৫৬৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সিএসইতে গত সপ্তাহে ৩৪৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে বেড়েছে ১৪৭টির, কমেছে ১৮৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১২টির শেয়ারদর।