ইত্তেফাক রিপোর্ট
করোনার কারণে দেওয়া শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতনভাতা খাতে দেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধে সময় চেয়েছে বিজিএমইএ। ১৮ মাসের পরিবর্তে ৩৬ মাসের কিস্তিতে ঐ টাকা পরিশোধের সুবিধা দাবি করে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, করোনার পর রপ্তানি খাত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।
শনিবার ঢাকার এক হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, মহামারি করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির উন্নয়নের সঙ্গে পোশাকশিল্পও ঘুরে দাঁড়াতে সমর্থ হবে। ২০১৮ সালে আমাদের রপ্তানি যেখানে ৩৪ বিলিয়ন ডলারে উঠেছিল, সেটাই পরের বছর ২৭ বিলিয়ন ডলারে নামে। আবারও রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার আসছে। এ অবস্থায় মহামারির চ্যালেঞ্জগুলো কাটতে সরকারের সহায়তা, দূতাবাসের আন্তরিকতা এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন। সেটা হলে পোশাকখাতে বিশ্ব বাজারে নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের পোশাক খাতকে আরো এগিয়ে নিতে নতুন বাজারের সন্ধানে প্রায় এক মাস যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) প্রতিনিধি দল। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা, নতুন দেশের বাজার তৈরি এবং পোশাক খাতের ব্র্যান্ডিং করাই ছিল সফরের মুখ্য উদ্দেশ্য। এ সফরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে স্থগিত অগ্রাধিকার বাণিজ্য সুবিধা (জিএসপি) ফিরে পাওয়ার ব্যাপারেও আশার সঞ্চার হয়েছে বলে জানান বিজিএমইএ সভাপতি।
তিনি বলেন, শিল্পের টেকসই উন্নয়ন, আধুনিকায়ন ও দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে আমাদের মার্কেট শেয়ার ৬২ দশকি ৬ শতাংশ থেকে আরো বাড়ানো সম্ভব। উত্তর আমেরিকা সফরের মাধ্যমে আমাদের অ্যাপারেল ডিপ্লোমেসির কাজটি নতুনভাবে শুরু করেছি। আগামী দিনগুলোতে আমরা আরো নতুন নতুন বাজারে ক্যাম্পেইন করব। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী ফ্রেইট ব্যবস্থাপনা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় কনটেইনার ভাড়া ২০০ থেকে ৩০০ গুণ বেড়েছে। এছাড়া আমাদের সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ আছে, যার মধ্যে অন্যতম পণ্যের দরপতন এবং স্থানীয় পযায়ে কিছু সমস্যা। এগুলোর সমাধান হলেও আবারও আগের অবস্থানে সহজেই ফিরতে পারবে তৈরি পোশাক শিল্প। তাই লোকাল ব্যাক টু ব্যাক ঋণপত্রের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত কাঁচামাল, সুতা ও আনুষঙ্গিক দ্রব্যাদির ক্ষেত্রে বন্ডেড ওয়্যার হাউজ লাইসেন্স থাকার বাধ্যবাধকতা রহিত করা দরকার। গ্রুপ অব কোম্পানির একটি প্রতিষ্ঠান ঋণ খেলাপি হলে সহযোগী অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ না করা, বন্ড লাইসেন্সে এইচ এস কোর্ড ও কাঁচামালের বিবরণ অন্তর্ভুক্তির জটিলতা নিরসন করারও দাবি জানান তিনি। এসময় বিজিএমইএর পরিচালনা পর্ষদ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
