‘ধর্মের নামে যারা সহিংসতাকে বৈধতা দেয় তারাই গান্ধী ও বঙ্গবন্ধুর হত্যার জন্য দায়ী’

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২১, ২২:০৫

মহাত্মা গান্ধীর  জন্মবার্ষিকীতে ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আলোচনা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

মহাত্মা গান্ধী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দুজনই ধর্ম-বর্ণ-জাতি-ভাষা-অঞ্চলনির্বিশেষে মানুষের কল্যাণের জন্য বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। যারা ধর্মের নামে সহিংসতাকে বৈধতা দেয়, তারা দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই মহান নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। তারা ভেবেছিল, ব্যক্তি গান্ধী বা মুজিবকে হত্যা করলে তাদের মানবপ্রেমের দর্শনের আলো নিভে যাবে; সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ ও ধর্মান্ধতা জয়ী হবে। কিছু সময়ের জন্য অন্ধকারের অপশক্তি কিছু অঞ্চলে তাদের আধিপত্য বিস্তার করতে পারে বটে, তবে সত্য ও মানবতারই জয় হয়। ইতিহাসের এই সত্যই মানবসভ্যতার চালিকাশক্তি।

মহাত্মা গান্ধীর ১৫২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে শনিবার একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত ‘মহাত্মা গান্ধী ও বঙ্গবন্ধুর মানবতা এবং বিশ্বশান্তির দর্শন’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখেন মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী দক্ষিণ এশীয় গণসম্মিলনের সভাপতি বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, মুক্তিযুদ্ধে শহিদ ভাষাসংগ্রামী ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের পৌত্রী মানবাধিকার নেত্রী আরমা দত্ত এমপি, ভারতের সাংবাদিক মানস ঘোষ, নির্মূল কমিটির সহসভাপতি শিক্ষাবিদ শহিদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, সর্বইউরোপীয় নির্মূল কমিটির সভাপতি মানবাধিকার নেতা তরুণ কান্তি চৌধুরী, নির্মূল কমিটির নরওয়ে শাখার সভাপতি লেখক খোরশেদ আহমেদ, নির্মূল কমিটির ফিনল্যান্ড শাখার সভাপতি গবেষক ড. মুজিবর দফতরি, নোয়াখালী গান্ধী আশ্রমের সম্পাদক সমাজকর্মী মনু গুপ্ত, নির্মূল কমিটির বহুভাষিক সাময়িকী ‘জাগরণ’-এর হিন্দি বিভাগীয় সম্পাদক ভারতের সমাজকর্মী তাপস দাস, নির্মূল কমিটির অস্ট্রেলিয়া শাখার সভাপতি ডা. একরাম চৌধুরী, নির্মূল কমিটির মানিকগঞ্জ শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট দীপক ঘোষ এবং নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক মানবাধিকার নেতা কাজী মুকুল প্রমুখ।

এদিকে মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে শান্তি সমাবেশের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদ্যাপন করেছে গান্ধী স্মারক সনদ নামের একটি সংগঠন। কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে অনুষ্ঠিত হয় এই শান্তি সমাবেশ। আয়োজক সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ নাসিফ মকসুদের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান, গ্রিন ভয়েসের সমন্বয়ক আলমগীর কবির, মো. আবদুল মান্নান, গান্ধী স্মারক সনদের সমন্বয়ক কবির সুমন ও মাসুদুর রহমান। এছাড়া গতকাল রাতে অনলাইনে অহিংসা দিবস স্মরণে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।