সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেড থেকে ৩৭ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি ঘটনায় ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান এস এম আমজাদ হোসেন ও পিপলস লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন (অব.) এম মোয়াজ্জেম হোসেনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। শিগিগরই তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করবে দুদক। মামলায় ঐ দুজন ছাড়াও এক ডজন ব্যাংক কর্মকর্তাকে আসামি করা হচ্ছে বলে দুদকের তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধান ইতিমধ্যে ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করেছেন। বিএফআইইউ-এর গোয়েন্দা প্রতিবেদন এবং ব্যাংকটির অডিট প্রতিবেদন সংগ্রহ করেছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক টিম ৩৭ কোটি টাকা আত্মসাত্ ও মানিলন্ডারিং অপরাধের জন্য এস এম আমজাদ হোসেন ও ক্যাপ্টেন (অব.) মোয়াজ্জেমসহ ব্যাংক কর্মকর্তাদের আসামি করে একাধিক মামলার সুপারিশ করে কমিশনে। এমনকি এসব মামলার এজাহার লেখাও সম্পন্ন হয়েছে বলে দুদক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান এস এম আমজাদ হোসেন খুলনা বিল্ডার্স লিমিটেড নামের অস্তিত্বহীন কোম্পানি খুলে ঐ ব্যাংক থেকে দুই দফায় ২২ কোটি টাকা নিয়ে আত্মসাত্ করেছেন। বিএফআইইউ তদন্ত দল সরেজমিনে গিয়ে এ নামে কোনো প্রতিষ্ঠান খুঁজে পায়নি। দুদকের অনুসন্ধানেও কোনো প্রতিষ্ঠান পাওয়া যায়নি এবং বাংলামোটরে যে গোডাউন দেখানো হয়েছে, ঐ ঠিকানায় কোনো গোডাউন নেই। পরে সাউথ বাংলার নিজস্ব অডিট কমিটি অডিট করেও এ ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠান পায়নি এবং ভিজিট রিপোর্ট সমূহ ভুয়া পায়, যা দুদকে পাঠানো হয়েছে। আবার এই অর্থের মধ্যে ১৫ কোটি টাকা একসঙ্গে শাখা থেকে উত্তোলন করা হয়, যা স্বাভাবিক লেনদেন নয়।
এদিকে পি কে হালদার সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য ক্যাপ্টেন (অব.) মোয়াজ্জেম হোসেন পিপলস লিজিং ধ্বংসের পর সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেড থেকে অভিনব পন্থায় অর্থ আত্মসাতে নামেন। দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এস এম আমজাদ হোসেন ও ক্যাপ্টেন (অব.) মোয়াজ্জেম তাদের কর্মচারীদের নামে আল আমিন এন্টারপ্রাইজ ও রাফি-মাহি এন্টারপ্রাইজ নামের দুটি প্রতিষ্ঠান খোলেন। একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ট্রেডিং ব্যবসার নামে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করান এবং পরবর্তী সময়ে শাখার কর্মকর্তাদের সহায়তায় এই অর্থ এস এম আমজাদ হোসেন ও ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জেমের ব্যক্তিগত এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তর করে আত্মসাত করেন, যা স্পষ্টই মানিলন্ডারিং অপরাধ।
এদিকে সূত্র আরো জানায়, ব্যাংকটির বোর্ড রেজুলেশনে উল্লেখ রয়েছে এস এম আমজাদ হোসেন ও ক্যাপ্টেন (অব.) মোয়াজ্জেম সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের পর্ষদ সভায় ঐ মানিলন্ডারিং অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং ছয় মাসের মধ্যে এসব অর্থ ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। এছাড়া ব্যাংকের অডিট প্রতিবেদনেও বিষয়টির উল্লেখ রয়েছে।
