মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ
বন্ধু, গল্প-আড্ডা—এসব নিয়েই হয় বন্ধুত্ব। পরিচয়, গল্প, একসঙ্গে চলাফেরা আর খুনশুটি থেকেই হয়ে যায় প্রাপ্ত অপ্রাপ্ত বয়স্কদের বন্ধুত্ব। বন্ধু এমন একটা ভরসার জায়গা, যেখানে সর্বদা আশ্রয় ও সাহস পাওয়া যায়। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই একজন বিশ্বাসযোগ্য, আস্থাশীল বন্ধুর খুবই প্রয়োজন। বন্ধুদের সঙ্গে কথায় কথায় ঝগড়া হয়, তার সঙ্গে সঙ্গেই ক্ষণিকের মধ্যেই আবার ভাব জমে যায়। চলার পথে প্রত্যেকের জীবনে বন্ধু নামের বিশ্বাসী ও মজবুত একটি সম্পর্কের সৃষ্টি হয়।
স্কুলজীবনে আমাদের অনেক বন্ধু থাকে। কলেজে পড়ার সময়ে অনেকের ক্ষেত্রে সেই সংখ্যাটা বহু গুণে বেড়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে ভর্তি হলে তো কথাই নেই। নতুন এক অচেনা পরিবেশে অনেকের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব হয়। যদিও অনেকের মতে বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধুত্ব হয় স্বার্থের জন্য কিংবা অনেক সময় শুনে থাকি ভার্সিটির বন্ধুগুলো শিট, সাজেশন্সের টানেই কাছে আসে, ভালোবাসার টানে নয়। এই কথাটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে অথচ একবারও শুনেনি এমন ছাত্র পাওয়া দুষ্কর। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বন্ধুত্বের ধরন ও আচরণ কেমন হওয়া উচিত একেকজন একেক মতামত পেশ করবেন।
দিন পালটায়, পালটে যায় সময়ও। এক সময়কার বন্ধুগুলো হারিয়ে যায়। আসে নতুন বন্ধু। আমাদের জীবনের একটা বড় সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে কাটে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মজা ও আনন্দ করতে নেই মানা। নিয়মিত ক্লাস করা, সংগঠনে যাওয়া, খেলাধুলা করা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ। বিশেষ করে এসব মাধ্যমেই গড়ে উঠে বন্ধুত্ব। বন্ধু শব্দ বলে বোঝানো যায় না, শুধু অনুভবের বিষয়। বন্ধুত্বে কোনো ধর্ম নেই, নেই বংশ গৌরব। সবাই মিলে যায় এক বিন্দুতে। বিপদে সবাই ছুটে যায় বন্ধুর পাশে। ক্যাম্পাসে এসে চেনা নেই, জানা নেই, জীবনেও দেখা হয়নি এমন মানুষগুলোই কতটা না আপন হয়ে যায়। কোনো স্বার্থ ছাড়াই বন্ধুর জন্য লড়ে যায়।
ক্যাম্পাসের বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে ভ্রমণে বের হওয়া, ক্যাম্পাসে আড্ডা, দুষ্টুমি এসব নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধুত্ব। একসঙ্গে দল বেঁধে ঘুরতে বের হওয়ার মজাটাই আলাদা। আর সঙ্গে যদি বন্ধুরা থাকে সেটা বলে বোঝানো যায় না। তেমনি ঢাকার আশপাশে ঘুরতে যাওয়া। ক্লাস শেষ কিংবা অবসরে ক্যাম্পাসে আড্ডা দেওয়া একটুখানি মনে প্রশান্তি এনে দেয়। সারা দিনের পড়াশোনার পাশাপাশি বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা জমে ওঠে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে। ক্ষণস্থায়ী এই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে নানা রকমের বন্ধু হয়। যদিও নিজের স্বার্থের জন্য বন্ধুত্ব না করে বন্ধুকে ভালোবাসতে শেখা উচিত।
বিশ্ববিদ্যালয় শেষে স্মৃতি বলতে ক্যাম্পাসে কাটানো হাজার মুহূর্তগুলো। ক্যাম্পাসে কেউ জিতে যায় নাই। জয় হয় বন্ধুত্বের। বন্ধুর প্রতি কারো মনে থাকে না হিংসা। সবাই চায় আমার বন্ধুটা জিতে যাক। আর এভাবেই তো সব বন্ধু জিতে যায়। ক্যাম্পাস লাইফের বন্ধুত্বটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনার্স শেষ হলে সবাই তা বুজতে পারে। এভাবেই বেঁচে থাকুক বন্ধুত্ব। জীবনের বেড়াজালে আটকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের বন্ধুরা।
