মহামারি পরিস্থিতি সামলে দীর্ঘ ১৮ মাস পর খুলেছে গণবিশ্ববিদ্যালয়। এতে ক্যাম্পাসের প্রাণ শিক্ষার্থীরা যেন মুক্ত পাখি হতে পেরেছে। বন্দিজীবনের হাঁসফাঁস কাটিয়ে মুক্ত আকাশে ওড়ার সেই অনুভূতিগুলোই তুলে ধরছেন— তানভীর আহম্মেদ
লম্বা বিরতি শেষে অবশেষে ক্যাম্পাসে যেতে পারব—এই অনুভূতি এমন যে, প্রকাশ করার মতো ভাষা আমার কাছে নেই। মনে হচ্ছে জীবনের প্রথম দিনে স্কুলে যাওয়ার সেই অনুভূতি নতুন করে ফিরে এসেছে। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে পথচলা অনলাইনেই শুরু। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই আমেজ ও পরিপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত হই। যদিও অনলাইনে ক্লাস-পরীক্ষা সবই ঠিকঠাক হতো, কিন্তু সরাসরি ক্যাম্পাসে গিয়ে জ্ঞান আহরণের যে সুবিধা, যে আনন্দ, সেটা অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থা থেকে পাইনি। ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার কারণে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছিলাম। খুলে দেওয়ার পর আমি দারুণভাবে উজ্জীবিত। এখন থেকে থাকবে না সেই অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থার বেড়াজাল। এখন সুযোগ পাব ক্যাম্পাসে গিয়ে শিক্ষা অর্জনের, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া, পড়াশোনা নিয়ে গ্রুপিং করা, বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজের দক্ষতাকে সমৃদ্ধ করতে পারব—এটা সত্যিই আনন্দের।
—হাসিবুল হাসান (সৌরভ)
দ্বিতীয় সেমিস্টার, অণুজীববিজ্ঞান বিভাগ।
পড়াশোনার হাজারো ব্যস্ততার সঙ্গে প্যারাময় পরীক্ষার চাপ মাঝে মাঝে বিষয়ে তুলত। তার পরও বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আড্ডা, খেলাধুলা, হইহুল্লোড়ে সময়টা কেটে যেত। সব মিলিয়ে ক্যাম্পাস জীবনটা ভালোই চলছিল। কিন্তু মহামারি করোনা জীবন থেকে সেই আনন্দময় ব্যস্ততা কেড়ে নিয়ে উপহার দিয়েছিল ঘরবন্দি বোরিং জীবন। মন সব সময় পুরানো সেই দিনগুলোতে ফেরার অপেক্ষায় থাকত। অবশেষে দীর্ঘ ১৮ মাস পরে প্রাণের ক্যাম্পাসে ফিরতে পেরে মনে হচ্ছে এক নতুন আলোর পথে পা রাখলাম। নিজেকে অনেক প্রাণবন্ত মনে হচ্ছে, মনে হয় একরাশ আনন্দের আলো ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে।
—মোনালিসা
ষষ্ঠ সেমিস্টার, ফার্মেসি বিভাগ।
সব প্রতীক্ষা, জল্পনা-কল্পনা কাটিয়ে আমার চিরচেনা ক্যাম্পাস পুনরায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে—এটা যে কতটা আনন্দের বলে বোঝানো যাবে না। ক্যাম্পাস বন্ধের প্রথম দিকের দিনগুলো আতঙ্কের ছিল। ধীরে ধীরে সেই ভয়টা কেটে যাওয়ার পর মোটামুটি স্বাভাবিক দিন যাপন করছিলাম। সবকিছু ছাপিয়ে ঘরবন্দি জীবন থেকে বেরিয়ে ক্যাম্পাসে ফেরার আকুতি ভীষণভাবে নাড়া দিল। ক্যাম্পাসে এসে তরুণ প্রাণে মুখর পরিবেশ সেই উচ্ছ্বাস যেন প্রাণ ছুঁয়ে দিয়েছে। ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে সবার পদচারণা আর আনন্দময় সময়গুলো আবারও ফেরত পেয়েছি। ক্লাসের বিরতিতে ক্যান্টিনে বসে আড্ডা দেবে সবাই মিলে। সব মিলে মনের মধ্যে এক অসাধারণ অনুভূতি কাজ করছে ক্যাম্পাসে ফিরতে পেরে।
—মুহাম্মদ জাবির সালেহীন দ্বীপ্র
তৃতীয় সেমিস্টার, ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদ।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস মানেই ভালোবাসা ও আবেগের একটি জায়গা। সেই চিরচেনা ক্যাম্পাস দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় সব অনুভূতি যেন থোঁতা হয়ে গিয়েছিল। অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের আসল মজা উপভোগ করা যায় না, তাই যত দ্রুত সম্ভব ক্যাম্পাস খুলে দেওয়ার তীব্র বাসনা কাজ করত। অনেক দিন পর পুনরায় ক্যাম্পাসে গিয়ে ক্লাস করার সুযোগ পেয়ে মনে হলো আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছি। দম বন্ধ হয়ে যাওয়া জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে এখন মুক্ত আকাশে পাখি হয়ে উড়তে পারব—এটা অসম্ভব ভালো লাগার। বন্ধুদের সঙ্গে গল্প, আড্ডায় মেতে উঠতে পারার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। এই অনুভূতি যেন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম ক্লাস করার মতো। ভাবতেই ভালো লাগছে, আবার শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়েছে প্রাণের ক্যাম্পাস। এখন শুধুই অপেক্ষা সুস্থ-সুন্দর পৃথিবীর।
—আরিফা আক্তার
চতুর্থ সেমিস্টার, মেডিক্যাল ফিজিক্স অ্যান্ড বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ।
০
