ভাঙছে বংশাই-লৌহজং নদীর দুই পাড়

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২১, ২১:১৮

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

মির্জাপুরে বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বংশাই-লৌহজং নদীর দুই পাড়ে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। নদীভাঙনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ও ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ভাঙন আতঙ্কে দিন পার করছেন দুই পাড়ের বাসিন্দারা।

ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রউফ জানান, বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভাঙন। চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন বহু পরিবার। গত কয়েক দিন ধরে বংশাই নদীর ফতেপুর, হিলড়া আদাবাড়ী, থলপাড়া, বৈন্যাতলী, চাকলেশ্বর, গোড়াইল, গাড়াইল, পুষ্টকামুরী পূর্বপাড়া, বাওয়ার কুমারজানি, ত্রিমোহন, বান্দরমারা, যুগিরকোপা, রশিদ দেওহাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে নদীভাঙন।

উফুলকী গ্রামরে বাসিন্দা মো. শুকুর মাহমুদ বলেন, লৌহজং নদীর মাঝালিয়া, গুনটিয়া, চুকুরিয়া, বরাটি, দেওহাটা, কোর্ট বহুরিয়া, বহুরিয়া, কামারপাড়া, নাগরপাড়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকা নদীভাঙনে বহু পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্রিজ, কালভার্ট ও রাস্তাঘাট, ফসলি জমি।

এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান বলেন, বৃষ্টি ও বন্যাতে বিভিন্ন স্থাপনা ও ব্রিজের ক্ষতি হচ্ছে। এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা ও ব্রিজের প্রকল্প তৈরি করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগ মির্জাপুর অফিসের উপবিভাগীয় সহকারী প্রকৌশলী মো. এনামুল কবির বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনের যেসব আঞ্চলিক রাস্তার ক্ষতি হয়েছে এগুলোর প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে। বরাদ্দ পেলে রাস্তাগুলোর দ্রুত সংস্কার করা হবে।

টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুর ইসলাম বলেন, এ বছর বন্যা ও বৃষ্টিতে মির্জাপুর উপজেলার বংশাই ও লৌহজং নদীর তীর এলাকায় বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এমন খবর তাদের কাছে রয়েছে। স্থানীয় এমপি মহোদয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা ও নদীর পাড় রক্ষার জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডে আবেদন করা হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পেলে সহযোগিতা দেওয়া হবে।