প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা-ইলিশ রক্ষায় আজ থেকে শুরু হয়েছে বিশেষ অভিযান। দেশের ৩৮টি জেলায় স্থানীয় প্রশাসন, মত্স্য দপ্তর, পুলিশ, র্যাব, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, কোস্ট গার্ড, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সমন্বিতভাবে এ অভিযান পরিচালনা করবে। মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ অভিযান শেষ হবে আগামী ২৫ অক্টোবর।
উল্লেখ্য, ইলিশের উত্পাদন বাড়াতে আজ থেকে ২২ দিন ২০ জেলায় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আর ১৮ জেলায় ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এ সময় ইলিশ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন ও মজুত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
গতকাল রবিবার সচিবালয়ে মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদের সভাপতিত্বে এ উপলক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মত্স্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী শামস্ আফরোজ ও নৌপুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি শফিকুল ইসলাম প্রমুখ অংশ নেন। এছাড়া অভিযানসংশ্লিষ্ট ৩৮ জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, কোস্ট গার্ড, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, র্যাব এবং মত্স্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সভায় ভার্চুয়ালি অংশ নেন।
সভায় জানানো হয়, মা-ইলিশ রক্ষায় এ বছর ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। নৌপুলিশ নদীতে ভাসমান ফাঁড়ি পরিচালনা করবে এবং সার্বক্ষণিক একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু রাখবে। বিমান বাহিনী আকাশপথে নজরদারি গত বছরের চেয়ে বৃদ্ধি করবে এবং রাতের বেলা টহল জোরদার করবে। মা-ইলিশ সংরক্ষণে বাধা সৃষ্টি করলে কোনো রকম ছাড় দেওয়া হবে না বলে সভায় জানানো হয়।
অভিযানের সময় ২০টি জেলা—ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বাগেরহাট জেলার নদনদী, মোহনা ও সাগরে ইলিশসহ সকল প্রকার মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। অন্য ১৮টি জেলা নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, জামালপুর, রাজশাহী, নাটোর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, খুলনা, কুষ্টিয়া ও নড়াইল জেলার নদনদীতে ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ থাকবে।
বরগুনা (উত্তর) প্রতিনিধি জানান, নিষেধাজ্ঞার কারণে উপকূলীয় এলাকার মাছধরারত সহস্রাধিক ট্রলার বরগুনা, পাথরঘাটা ও তালতলীসহ নিরাপদ স্থানে নোঙর করেছে। এদিকে দেশের বৃহত্তম মত্স্য অবতরণ কেন্দ্র (বিএফডিসি) বরগুনার পাথরঘাটায় বেড়েছে ইলিশের দাম। ইলিশ কিনতে বাজারে ভিড় করছেন সাধারণ ক্রেতারা। আর এই সুযোগে অতিরিক্ত দাম হাকছেন বিক্রেতারা। বরগুনার মাছবাজার ঘুরে দেখা যায়, দেড় কেজি ওজনের বড় ইলিশ প্রতি মণ ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রামের প্রতি মণ ইলিশ ৩৮ থেকে ৪০ হাজার টাকা এবং ৩ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১৭ থেকে ২০ হাজার টাকা মণে বিক্রি হচ্ছে। একই ওজনের ইলিশ কয়েক দিন আগেও বিক্রি হয়েছে অনেক কম দামে। ইলিশ বিক্রেতারা জানান, শেষ মুহূর্তে ইলিশের মজুত কম থাকায় কিছুটা চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে মাঝারি থেকে বড় সাইজের ইলিশ। আর নিষেধাজ্ঞা সামনে রেখে ইলিশ কিনে সংগ্রহ করে রাখছেন পাইকারি বিক্রেতারা।
