বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
সুধীর বরণ মাঝি, শিক্ষক
হাইমচর সরকারি মহাবিদ্যালয়, চাঁদপুর
১. ঘটনা: গতকাল রিফাত TV-র সংবাদে জানতে পারল যে, ঢাকার একটি নামকরা শপিংমলের ১১ ও ১২ তলায় সংগঠিত একটি দুর্ঘটনায় বেশ কিছু দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বহু মানুষ হতাহত হয়। একটি বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা এসে উক্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ২. ঘটনা:গত ২৫ এপ্রিল ২০১৫ বেলা ১১:৫৬ মিনিটে বাংলাদেশসহ সমগ্র নেপাল একযোগে কেঁপে উঠে। এতে অনেক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বহুলোকের হতাহতের খবরও পাওয়া যায়। আমরা যদি একটু সাবধান হই তাহলে এ ক্ষতির পরিমাণ কমানো যেতে পারে।
ঘ) ঘটনা-২ এর দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনতে তুমি কী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পার? মতামত দাও।
ঘ) উত্তর:ঘটনা-২ এর দুর্যোগটি হলো ভূমিকম্প। পৃথিবীতে যত রকম প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে তার মধ্যে ভূমিকম্পই সবচেয়ে অল্প সময়ে সবচেয়ে বেশি ধ্বংস যজ্ঞ ঘটায়। ভূমিকম্পের ব্যাপারে আগাম কোন সতর্ক সংকেত দেওয়া সম্ভব হয় না। ভূমিকম্পের ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনতে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে তা হলো-বাড়তি দরজা থাকা প্রয়োজন। প্রাথমিক চিকিত্সা সামগ্রী, হেলমেট, টর্চ লাইট প্রভৃতি মজুত রাখতে হবে। ভূমিকম্পের সময় আশ্রয় নেওয়ার জন্য একটি মজবুত টেবিল রাখতে হবে। ভারি আসবাবপত্র মেঝের উপরে রাখতে হবে। ব্যবহারের পর বৈদ্যুতিক বাতি ও গ্যাসের চুলা বন্ধ রাখতে হবে। সেই সাথে ভূমিকম্প শুরু হলে শক্ত টেবিল বা শক্ত কাঠের আসবাবপত্রের নিচে অবস্থান নিতে হবে। দ্রুততার সাথে বৈদ্যুতিক সুইচ ও গ্যাসের সংযোগ বন্ধ করে দিতে হবে। বাড়ির আশেপাশে খোলা জায়গা থাকলে দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে খোলা জায়গায় যেতে হবে। ভূমিকম্পের সময় লিফট ব্যবহার করা উচিত না। সেই সাথে ভূমিকম্পের পরে আহত লোকজনকে হাসপাতালে নিতে প্রয়োজনীয় তাত্ক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দুর্গত মানুষের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র, খাবার ও পানির ব্যবস্থা করতে হবে। তবে ভূমিকম্পের সময় আত্মরক্ষা এবং ভূমিকম্পের পর উদ্ধার কাজ ও ত্রাণ কাজ সম্পর্কে মানুষকে ধারণা দিতে হবে। তাই বলা যায়, ঘটনা-২ এর দুর্যোগ অর্থাত্ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনতে উপরোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা যেতে পারে।
