২০১৩ সাল থেকে ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি’ (আইসিটি) বিষয়টি ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আইসিটি সম্পূর্ণভাবে বিজ্ঞাননির্ভর হওয়ায় বিষয়টি পড়ানোর জন্য প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন দক্ষ শিক্ষক। অথচ বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই সুযোগ নেই। বার্ষিক ও পাবলিক পরীক্ষায় এই বিষয়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হয়। অথচ বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই বিষয়টি ভালোভাবে পড়ানোও সম্ভব হচ্ছে না। যে কারণে আইসিটি বিষয়ের পরীক্ষায় পাশ করা শিক্ষার্থীদের কাছে আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের অন্তত আশি শতাংশ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থী গ্রামাঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করে। অন্যান্য বিষয় যে কোনো শিক্ষক দক্ষ না হলেও পড়াতে পারেন। কিন্তু আইসিটি বিষয় পড়ানোর জন্য অবশ্যই এই বিষয়ে ডিগ্রিধারী শিক্ষক প্রয়োজন। এদিকে দেশের প্রায় ১৭ কোটি মানুষ মোবাইল ফোন ও প্রায় ১২ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। এই বিষয়ের গুরুত্ব, ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব ইত্যাদি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধারণা সৃষ্টির জন্য একটি অধ্যায় প্রতিটি শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান বইয়ে সংযোজন করা যেতে পারে। এই বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষার জন্য প্রকৌশল কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবশ্যই সুযোগ রয়েছে। আমরা আশা করি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টি বিবেচনা করে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।
বিপ্লব বিশ্বাস, গোয়ালচামট, ফরিদপুর
