স্পোর্টস রিপোর্টার
অনেক নাটকীয়তার পর ঘূর্ণিঝড় ‘শাহীন’ এর ধাক্কা পেরিয়ে ওমানে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। গতকাল বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টার পর মাস্কটে পা রেখেছে টাইগাররা। আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ খেলতে গত রবিবার শেষ পর্যন্ত রাত দেড়টায় বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে ওমানে গিয়েছিল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। বিসিবির মিডিয়া বিভাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ওমানে পৌঁছে বাধাত্যমূলক একদিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হচ্ছে ক্রিকেটারদের। গতকালই কোয়ারেন্টাইন শেষ হয়েছে। করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা নেগেটিভ হওয়া সাপেক্ষে আজই অনুশীলনে নেমে পড়বেন মাহমুদউল্লাহ-মুশফিকরা। শুরু হবে টি-২০ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত মিশন। টানা চার দিন চলবে অনুশীলন। পরে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে ৯ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাবে পুরো দল। একই দিনে দলের সঙ্গে যুক্ত হবেন আইপিএল খেলায় ব্যস্ত সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমান। প্রথম রাউন্ডের আগে আবুধাবিতে ১২ ও ১৪ অক্টোবর যথাক্রমে শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে মাহমুদউল্লাহ বাহিনী। এদিকে বিশ্বকাপ মিশনে দেশত্যাগের আগে বিমানবন্দরে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেছেন, ধারাবাহিকতা থাকলে, সক্ষমতার সেরাটা দিতে পারলে ভালো অর্জন করা যাবে। ভালো কিছু নিয়েই দেশে ফিরতে চান তিনি। একই সঙ্গে টি-২০ বিশ্বকাপের মূল পর্বে টানা ১৪ বছর কোনো জয় না পাওয়ার খরা কাটাতে মুখিয়ে আছেন মাহমুদউল্লাহ।
তিনি বলেছেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে মনে হয় জাতি হিসেবে আমাদের জন্য ভালো একটি সুযোগ এই বিশ্বকাপে যদি ইনশাআল্লাহ আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি, ধারাবাহিক থাকতে পারি। আমরা সর্বশেষ কয়েকটা সিরিজে যেরকম ক্রিকেট খেলেছি, ঐ রকম আত্মবিশ্বাস নিয়ে আমরা যদি খেলতে পারি, তাহলে ইনশাআল্লাহ আমাদের জন্য ভালো কিছু অর্জন করা সম্ভব।’
বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের প্রতি সবার প্রত্যাশা অনেক। সবার প্রত্যাশা পূরণে সামর্থ্যের সেরাটা খেলতে হবে পুরো দলকে। মাহমুদউল্লাহ চান, ধাপে ধাপে এগিয়ে যেত। ২০০৭ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপের মূল পর্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে জিতেছিল বাংলাদেশ। তারপর আর জয় নেই। মরুর বুকে সেই বাধা উতরানোই মাহমুদউল্লাহর মূল লক্ষ্য। তিনি বলেছেন, ‘যদি আমরা ভালো ক্রিকেট খেলে বাছাই পর্বের ম্যাচগুলো জিতে মূল পর্বে যাই তাহলে আমরা চেষ্টা করব যত বেশি ম্যাচ জেতা যায়। যেহেতু পূর্ববর্তী বিশ্বকাপগুলোর আমাদের খুব একটা সুখকর স্মৃতি নেই, আমরা চেষ্টা করব সেই দেওয়াল যেন ভাঙতে পারি।’
