ই-কমার্স ব্যবসার নামে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কিউকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রিপন মিয়াকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রবিবার বিকালে ধানমন্ডি এলাকা হতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। কিউকম ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার জন্য ‘বিজয় আওয়ার’, ‘স্বাধীনতা আওয়ার’ ও ‘বিগ বিলিয়ন’ প্রভৃতি চটকদার প্রচারণার নামে দুই থেকে ১৫ দিন সময় দিয়ে ১ লাখ ৬৭ হাজার টাকার মোটরসাইকেল ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রির অফার দেয়। এই লোভনীয় অফার পেয়ে ক্রেতারা নগদ টাকা পরিশোধের মাধ্যমে মোটরসাইকেল অর্ডার করত। কিন্তু সময়মতো কিউকম পণ্য সরবরাহ করেনি। এভাবে বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের ২৫০ কোটি টাকা আটকে রাখে কিউকম। বাজারমূল্যের চেয়ে কমে পণ্য দেওয়ার কথা বলে গ্রাহকদের ধোকা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।
এদিকে রিপন মিয়াকে আটকের পর এক ভুক্তভোগী গ্রাহক পল্টন থানায় প্রতারণার অভিযোগ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করে মামলার তদন্ত সংস্থা ডিবি। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আশেক ইমাম দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এই প্রতিষ্ঠানের জনসংযোগ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির নিরব (আরজে নিরব) পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, কিউকম করোনাকালীন তাদের ব্যবসা শুরু করে। কিন্তু কিউকমের অনেক ক্রেতাই পণ্য অর্ডার করে মালামাল না পেয়ে প্রতারিত হচ্ছে। বর্তমানে গ্রাহকরা পণ্যই পাচ্ছে না। বাজারে যেই মোটরসাইকেলের দাম ১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা, সেটি তারা ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করার বিজ্ঞাপন দিত। বিপুলসংখ্যক ক্রেতা অর্ডার করে মোটরসাইকেল না পেয়ে হতাশায় ভুগছে। এক্ষেত্রে রিপন মিয়া জানিয়েছেন যে তিনি মোটরসাইকেল ডেলিভারি না দিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার চেক দিতেন গ্রাহকদের। তবে তাদের পণ্য বিক্রির তালিকায় লক্ষাধিক গ্রাহকের সংখ্যা উল্লেখ রয়েছে। যিনি কিউকমের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন, তিনি বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল অর্ডার করে পেমেন্ট দিয়েছেন। কিন্তু পেমেন্ট দেওয়ার পরেও তিনি মোটরসাইকেলের ডেলিভারি পাননি, এই অভিযোগ করেছেন এজাহারে। রিপনকে গ্রেফতারের পর অসংখ্যক ভুক্তভোগী আমাদের কাছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে এসেছে। সে এখন মালামাল না দিয়ে চেক দেওয়া শুরু করেছে। এছাড়া চেক দিয়ে সে গ্রাহকদের যে কমিটমেন্ট দিয়েছিল, সেটিরও বরখেলাপ করছে। তবে যাদের চেক দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকে টাকা তুলতে পেরেছে বলে জানতে পেরেছি।
