ছোটো কোম্পানি হোক কিংবা বড়ো, যে কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরির ইন্টারভিউ আমাদের জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমাদের একটা ভুল পদক্ষেপে এক লহমায় শেষ হয়ে যেতে পারে কেরিয়ার। কাজের ক্ষেত্রে কারও অভিজ্ঞতা কম হতে পারে কারও বা বেশি, কারও ডিগ্রি বেশি হতে পারে কারও বা কম, কিন্তু ইন্টারভিউ টেবিলে যারা আপনাকে যাচাই করার জন্য বসে থাকবেন, তাদের কাছে নিজেকে তুলে ধরতে হবে একদম সঠিক ভাবে। কেমন ভাবে কথা বলবেন সেই দিকে যেমন নজর দেবেন, তেমনই কী পোশাক পরে যাবেন সেই দিকেও বাড়তি নজর দেবেন। কথায় বলে ‘প্রথমে দর্শনধারী পরে গুণ বিচারী’।
ইন্টারভিউইয়ের সময় একদম ফর্মাল পোশাক পরে যাওয়ার চেষ্টা করুন। তবে সব সময় যে এমন পোশাক পরতেই হবে, তা কিন্তু নয়। সালোয়ার-কামিজ বা লং টপ্স ও ট্রাউজার পরতেই পারেন। এমনকি শাড়ি পরলেও আপত্তি নেই। তবে যা-ই পরুন, এটুকু খেয়াল রাখবেন, তাতে যেন আপনাকে স্মার্ট দেখতে লাগে। আর পোশাক যেন অতি অবশ্যই হয় ছিমছাম।

মহিলারা কী পরবেন
কর্পোরেট সেক্টরে
যদি আপনি কর্পোরেট সেক্টরে ইন্টারভিউ দিতে যান যেমন, ল’ ফার্ম, ক্লায়েন্ট সার্ভিসিং, মার্কেটিং, জনসংযোগ ইত্যাদি জায়গায়, একদম সাধারণ পোশাক পরুন। উজ্জ্বল রং না পরলেই ভালো। আপনি সালোয়ার-কামিজ পরতে পারেন। যদি ট্রাউজার পরেন তা হলে খেয়াল রাখবেন সেটা যেন আপনাকে মানায়, অর্থাৎ খুব বেশি ঢিলে নয় আবার খুব টাইটও নয়। আবার যদি শাড়ি পরেন, বেশি পাতলা বা জমকালো শাড়ি পরবেন।
ক্রিয়েটিভ সেক্টরে
যদি আপনি ক্রিয়েটিভ সেক্টরে যেমন বিজ্ঞাপন এজেন্সি, লেখালেখি, ফোটোগ্রাফি, সিনেমা প্রোডাকশন, এ রকম কোনো জায়গায় চাকরির চেষ্টা করেন এবং সেখান থেকে ইন্টারভিউয়ের ডাক পান, তা হলে ফর্মাল জামাকাপড় পরার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে খুব বেশি খোলামেলা পোশাক পরবেন না। উজ্জ্বল রং পরুন, তবে ঝকমকে জামাকাপড় পরবেন না। এমন ভাবে সাজুন যাতে মনে হবে যেন সাজেননি। অর্থাৎ ফরমালি ক্যাসুয়াল একটা লুক দিন নিজেকে।

স্যুট বা শাড়ি
এ ছাড়াও কোনো সময় স্যুট বা শাড়ি পরতে পারেন। স্যুট পরলে বেছে নিন নেভি বা ধূসর রং। শাড়ির ক্ষেত্রেও সুতির হালকা রঙের শাড়ি পরুন। শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজ়ের দিকে বাড়তি নজর দিতে হবে। বেশি নকশাযুক্ত ব্লাউজ়ের বদলে এয়ারহোস্টেস গলা ও থ্রি কোয়ার্টার হাতাযুক্ত ব্লাউজ় পরতে পারেন।
জুয়েলারি
ইন্টারভিউয়ে যাওয়ার জন্য যতটা সম্ভব কম জুয়েলারি পরার চেষ্টা করুন। ছোটো কানের দুল, হাতে একটা ঘড়ি। ব্যাস, এর থেকে বেশি কিছু না পরাই ভালো।
মানানসই জুতো
পোশাকের সঙ্গে মানানসই জুতো পরা জরুরি। সেই সঙ্গে বেশি উচ্চতার হাইহিল এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।
চুল
চুল খুলে এলোমেলো অবস্থায় ইন্টারভিউ না দিতে যাওয়াই ভালো। পরিপাটি করে চুল বেঁধে নিন। চাইলে পনিটেল বাঁধতে পারেন।

পুরুষরা কেমন পোশাক পরবেন
ইন্টারভিউয়ে পুরুষদের ফর্মাল ট্রাউজারই বেস্ট। বেছে নিতে পারেন নেভি অথবা গাঢ় ধূসর রঙের ট্রাউজার। ফুলহাতা শার্ট বেছে নিন। সাদা বা হালকা রঙের শার্ট ইন্টারভিউয়ে পরার জন্য একদম পারফেক্ট। ট্রাউজার ও শার্ট একে অপরের সঙ্গে যেন মানানসই হয়।
রংবেরঙের মোজা ইন্টারভিউয়ের জন্য একেবারেই চলে না। তাই বেছে নিতে পারেন ডার্ক কালারের মোজা। সেই সঙ্গে অবশ্যই চামড়ার জুতো পরবেন। কালো রঙের জুতোই উত্তম। ক্লিন শেভ হতে হবে, হেয়ারস্টাইলটা থাকবে মার্জিত।
ইত্তেফাক/এফএস
