করোনাকালে আলো ছড়াচ্ছে টিম সংশপ্তক

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২১, ২০:২৩

>> মো. মারুফ মজুমদার

 

২০২০ সালে বিশ্ব যখন কোভিড মহামারির করালগ্রাসে আক্রান্ত, বাংলাদেশেও এর প্রভাব ছিল লক্ষণীয়। যে কারণে অসংখ্য মানুষ হয়েছে ঘরবন্দী। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত, দিনমজুর। তেমন কঠিন পরিস্থিতিতে, কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া একদল তরুণ তুর্কি আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসে এবং গড়ে তুলে সেচ্ছাসেবীমূলক সংগঠন ‘সংশপ্তক’। টিম গঠন করার শুরুতে করোনা যুদ্ধের সৈনিক হিসেবে  একে একে শামিল হয় ২৬৬ জন সাধারণ শিক্ষার্থী, ১৩ জন চিকিত্সক এবং ৪১ জন মেডিকেল শিক্ষার্থী। ২৬৬ জন নিয়ে কাজ শুরু করা সংগঠনটির বর্তমানে সদস্য সংখ্যা ১২৩৫ জন শিক্ষার্থী। শুরু থেকেই করোনা সংকট মোকাবেলায় নানা উদ্যোগ গ্রহণ ও কাজের মাধ্যমে দেশজুড়ে আলোচনায় আসে টিম ্তুসংশপ্তক। প্রথমেই, সংশপ্তক টিমের সদস্যরা নিজস্ব অর্থায়নে একযোগে ১৬ ইউনিয়নের বাজারে ও গ্রামে জীবাণুনাশক প্রয়োগ করে। উপজেলার ৭ শতাধিক মানুষের মাঝে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ, ২ হাজার ৫০০ মানুষের মাঝে মাস্ক বিতরণ, জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম, বিদেশ ফেরতদের  সচেতন করে তোলা, বাড়িতে অবস্থান করায় তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী কিনে দেওয়াসহ আরও অনেক সহায়ক কার্যক্রম চালায় টিম সংশপ্তক। দরিদ্র মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়লে সংশপ্তক টিম তাদের খাবারের সহায়তায় এগিয়ে আসে। সাড়ে ছয় শতাধিক মানুষকে দেওয়া হয় টেলি মেডিসিন সেবা। সে সময় থেকে এখন পর্যন্ত মানুষের জরুরি প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন  সংশপ্তকের মেডিকেল টিমের সদস্যরা। তারই ধারাবাহিকতায় গত রমজানে করোনার দ্ব্বিতীয় ঢেউ চলাকালীন নাঙ্গলকোট উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ভাসমান ও ছিন্নমূল অসহায় মানুষের মধ্যে সেহরি বিতরণ করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি। সংশপ্তক টিমের সমন্বয়ক ঢাবির শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘মুঠোফোনে ফোন দিলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাবার পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। নাঙ্গলকোটে দিচ্ছি বিনামূল্যে ‘সংশপ্তক অক্সিজেন সেবা’। উল্লেখ্য, করোনাকালে মানবসেবায় বিশেষ অবদান রাখায় পাঠাগার আন্দোলন বাংলাদেশ’র সম্মাননা লাভ করেছে স্বেচ্ছাসেবী টিম সংশপ্তক।