রোগ নিরাময়ে মানুষের মধ্যে একটি সাধারণ প্রবণতা হলো, চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা। এতে করে হিতে বিপরীত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিকরোধী ক্ষমতা তৈরি হয়ে গেছে। এ কারণে যক্ষ্মা, শ্বাসতন্ত্রের রোগ এবং গনোরিয়ার মতো যৌন রোগের চিকিত্সার কার্যকারিতা কমে যাচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে প্রতিবছর নভেম্বর মাসে ‘বিশ্ব অ্যান্টিবায়োটিক সচেতনতা সপ্তাহ’ পালন করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো, মানুষকে মনে করিয়ে দেওয়া যে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত; তা না হলে ওষুধ হিসেবে এটি কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে ওষুধ বিক্রি নিয়ন্ত্রিত নয়, তাছাড়া অ্যান্টিবায়োটিকের যথাযথ ব্যবহারে অজ্ঞতা একটি কারণ। অনেকে রোগ ভালো হয়ে গেলেই কোর্স সম্পন্ন না করে ওষুধ সেবন বন্ধ করে দিলে ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে ফল পাওয়া যায় না। তাই ইচ্ছামতো অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে; তা না হলে একসময় পৃথিবী অ্যান্টিবায়োটিক শূন্যতায় ভুগবে।
রাতিক হাসান রাজীব
শিক্ষার্থী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট
