শরীয়তপুর জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে যুবলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। যুবলীগের নতুন কমিটিতে পদ পেতে পদপ্রত্যাশী দুই গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। শহরের উত্তর বাজার, বাসস্ট্যান্ড, চৌরঙ্গী, ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে ও মনোহর বাজার মোড়ে কয়েক দফা সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার ঘটনায় পথচারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে।
পক্ষ দুটির নেতৃত্ব দেন পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাচ্চু ব্যাপারী এবং অন্য পক্ষের নেতৃত্ব দেন পৌর মেয়র পারভেজ রহমান জন ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিক পাহাড়।
পুলিশ জানায়, গতকাল শহরের পালং বাজারে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে যুবলীগের বর্ধিত সভা ছিল। এ উপলক্ষ্যে পদপ্রত্যাশীরা তাদের সমর্থকদের নিয়ে সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন। এ কারণে বর্ধিত সভাকে ঘিরে শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় দুই গ্রুপ। দুই পক্ষই অস্ত্রের মহড়া দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ২২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। আতঙ্কে পালং বাজারের ব্যবসায়ীরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখেন। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পরে পুলিশ পাহারায় যুবলীগের বিশেষ বর্ধিত সভা জেলা যুবলীগ সভাপতি এম এম জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে সম্পন্ন হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া-সদর সার্কেল) মিজানুর রহমান বলেন, সারা শহরে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়েছিল। পুলিশ দক্ষতার সঙ্গে তা নিয়ন্ত্রণ এনেছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ২২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। যারা অস্ত্র প্রদর্শন করে মিছিল করেছিল তাদের চিহ্নিত করতে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হবে।
সংঘর্ষে আহত সদর উপজেলার চর পালং গ্রামের মো. জাকির সরদার, সদর উপজেলার কেবলনগর গ্রামের আক্তার ঢালী ও সদর উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের তামিম ফকির, শিশু পরিবারের শিক্ষক শামীম হোসেন এবং চয়ন বিশ্বাসকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শরীয়তপুর জেলা যুবলীগের সভাপতি এম এম জাহাঙ্গীর বলেন, বর্ধিত সভা যেহেতু সাংগঠনিক সভা তাই জেলার নির্বাহী কমিটি, প্রতিটি উপজেলা কমিটির ৯ জন করে ও সদর পৌরসভার ৯ জন প্রতিনিধি যোগ দিয়েছেন। আর ছয় জন কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন। এর বাইরে কাউকে অনুষ্ঠানে আসতে দেওয়া হয়নি। লোক মুখে শুনেছি অনেকে শোডাউন করার জন্য লোকজন জড়ো করেছেন। তারা বিশৃঙ্খলা করেছেন। এর দায় জেলা যুবলীগ নেবে না। শরীয়তপুর সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি বিল্লাল হোসেন দীপু মিয়া বলেন, যুবলীগের বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে একটি মহল অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাচ্ছিল। আমরা তা প্রতিহত করার জন্য শহরের বিভিন্ন স্থানে কর্মীদের জড়ো করেছি। আমাদের কেউ সংঘর্ষে জড়ায়নি।
পৌর মেয়র পারভেজ রহমান জন বলেন, একটি পক্ষ অনুষ্ঠানে যেতে বাধা সৃষ্টি করেছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে শহরে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুবলীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. খালেদ শওকত আলী বলেন, ওয়ার্ড থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যন্ত সব কমিটি আগামী দুই মাসের মধ্যে গঠন করতে হবে। সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সুব্রত পাল। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ডা. হেলাল উদ্দিন ও শহিদুল হক চৌধুরী রাসেল, অ্যাডভোকেট মুক্তা, আসাদুজ্জামান আজম।
