‘আপা’ সম্বোধনে আপত্তি, ‘মা’ ডাকতে বললেন ইউএনও

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২১, ২২:১৮

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছাম্মত্ সাবিনা ইয়াছমিনকে জামাল উদ্দিন নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী ‘আপা’ বলে সম্বোধন করায় তিনি (ইউএনও) রাগান্বিত হয়ে ‘মা’ ডাকতে বলেন। সোমবার দুপুরে বুড়িচং ইউএনও কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি মন্তব্য লিখে পোস্ট করলে মুহূর্তের মধ্যে তা ভাইরাল হয়ে যায় এবং এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে বেশ আলোচনা-সমালোচনার শুরু হয়। মঙ্গলবার বিকালে তার ঐ পোস্ট ফেসবুকে দেখা যায়নি।

ফেসবুক পোস্টে জামাল উদ্দিন লিখেছেন, ‘সরকারি কর্মকর্তাদের সাধারণ জনগণ ‘স্যার’ বলতে হবে এটা কি বাধ্যতামূলক? এ বিষয়ে সরকারের কোনো আইন আছে কি? ফ্যাক্ট :বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ‘আপা’ বলার কারণে খুব রাগান্বিত হয়েছেন। এটা নাকি অফিস অ্যাড্রেস না। ‘আপা’ না বলে ‘মা’ ডাকতাম। আমি লজ্জিত। দেশটা কি মগের মুল্লুক?’

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জামাল উদ্দিন বলেন, সোমবার দুপুরে আমার এক আত্মীয়ের জন্মনিবন্ধন সংশোধনের জন্য আমি ইউএনও কার্যালয়ে যাই। ‘স্যার’ সম্বোধন করে ওনার সঙ্গে আমার কথা শুরু হয়। কথা বলার একপর্যায়ে অপ্রত্যাশিতভাবে আমার মুখ থেকে ‘আপা’ শব্দটি বের হয়। এ সময় তিনি রেগে গিয়ে বলেন, ‘এটাতো অফিসিয়াল ভাষা না। তাহলে ‘আপা’ না ডেকে ‘মা’ ডাকেন। বিষয়টি নিয়ে আমি বিব্রত। আমি লজ্জিত। যার ফলে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছি। মঙ্গলবার বিকালে তিনি নানা কারণে ফেসবুক থেকে পোস্ট ডিলিট করে দিয়েছেন বলে জানান।

মঙ্গলবার বিকালে বুড়িচংয়ের ইউএনও মোছাম্মত্ সাবিনা ইয়াছমিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘একজন বয়স্ক লোক এসে আমাকে ‘আপু’ ডেকেছে। আমি তাকে বলেছি, আপনি আমার বাবার বয়সি, ‘মা’ ডাকেন’। বয়স্ক লোকে ‘মা’ ডাকবে এটা স্বাভাবিক। বাবার বয়সের মানুষ যখন ‘আপু আপু’ ডাকে তখন খারাপ লাগে। যার এক পা কবরে চলে গেছে, সে আমাকে ‘আপু’ ডাকলে অবশ্যই আমার আপত্তি আছে। যার চরিত্রগত সমস্যা আছে, সে মেয়ে দেখলেই ‘আপু’ ডাকে। এটা বুঝতে হবে।’ সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি রিপোর্টারদের ফোন (সরকারি মোবাইল ফোন) ধরতে বাধ্য নই। রিপোর্টারদের ফোন ধরার ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা আছে এমন বিষয় কোথায় লেখা আছে? কোন আইনে লেখা আছে?’

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে একজন সেবাপ্রত্যাশী যেভাবেই ডাকুক না কেন, এতে ঐ কর্মকর্তার আপত্তি থাকার কথা না। সরকারি চাকরিতে এ ধরনের বিধি কোথাও উল্লেখ নেই। যেহেতু সেবাগ্রহীতা বয়স্ক মানুষ। এক্ষেত্রে তিনি রেগে না গিয়ে আরো বিনয়ী হতে পারতেন। বিষয়টি এককথায় অশোভন আচরণ। এ ধরনের আচরণ ঐ কর্মকর্তা করতে পারেন না। এটা সম্পূর্ণ গর্হিত কাজ।