চলনবিলে অবাধে পাখি নিধন

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২১, ২২:১৯

চলনবিলে পাখি শিকারীদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। দিন-রাত অবাধে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি নিধন করে চলেছেন শিকারীরা। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের যথাযথ প্রয়োগ নেই বলে পাখি শিকারীদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায় প্রতিবছর এই মৌসুমে।

গতকাল মঙ্গলবার সরজমিনে দেখা যায়, চলনবিলের তাড়াশ উপজেলার বিনসাড়া ও কাজিপুর গ্রাম এলাকার বিস্তীর্ণ মাঠ থেকে রাতের আঁধারে কাদাখোঁচা, রাতচোরা, শালিকসহ অতিথি পাখি শিকার করেছেন পাখি শিকারীরা। এদিকে তাড়াশের সীমান্তবর্তী নিমগাছি বাজারে পাখি বিক্রির সময় শতাধিক বক  অবমুক্ত করেছেন রায়গঞ্জ থানা পুলিশ।

রায়গঞ্জ থানার এসআই আসিফ আল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার সকালে তিন জন পাখি শিকারী ফাঁদ পেতে বক শিকার করে নিমগাছি বাজারে নিয়ে আসে। এরপর স্থানীয় রেজাউল করিম নামে একজন পুলিশে খবর দেয়। তারপর জনসম্মুখে পাখিগুলো অবমুক্ত করা হয়। পাখি শিকারীরা আগেই পালিয়ে যায়। পরে শিকারীদের পাখি ধরার ফাঁদগুলো পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েক জন পাখি শিকারী বলেন, চলনবিল থেকে পানি নামার সময় ফাঁকা মাঠের খেতে ও ডোবা, নালা, খালে পুঁটি, দারকিনা, খলসেসহ প্রচুর পরিমাণে ছোট মাছ ও পোকা-মাকড় পাওয়া যায়। সেসব খাবারের লোভে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি চলনবিলে আসে। কারেন্ট জাল ও বিভিন্ন ফাঁদ পেতে তারা পাখি শিকার করেন। 

স্থানীয় ‘স্বাধীন জীবন’ নামে জীববৈচিত্র্য প্রকৃতি সংরক্ষণ কাজের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক নাছিম বলেন, বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট পাখিদের অবাধ বিচরণের জন্য সারা দেশে যথারীতি ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। এরপরও নির্মমভাবে পাখি শিকার করা হচ্ছে।

জানা গেছে, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী পাখি শিকারীদের এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।  তাছাড়া একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটালে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিচালক জহির আকন্দ বলেন, এখনই আইনের প্রয়োগ করতে চাচ্ছি না। কারণ পাখি বাঁচাতে জনসচেতনতাই মুখ্য। সেজন্য গত দেড় বছর ধরে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে চলনবিল অঞ্চলের মানুষ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাতে পাখি শিকার আগের তুলনায় কমেছে। এরপরও যদি সম্ভব না হয়, তাহলে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী পাখি শিকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে রাজশাহী বিভাগীয় বন্যপ্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ১৬ জেলা নিয়ে তাদের কাজ। যেখান থেকেই পাখি শিকারের তথ্য পাওয়া যাবে। শিকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।