পদ্মপুর আর লক্ষ্মীপুর। নগদাশিমলা ইউনিয়নের উন্নয়ন বঞ্চিত দুই গ্রাম। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিত্সা ও যাতায়াতে ন্যূনতম সুযোগ বঞ্চিত দুই গ্রামের মানুষের নিকট ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন এখনো অধরাই রয়ে গেছে।
তিন দিকে বিল একদিকে খাল। মাঝে লক্ষ্মীপুর। বর্ষাকালে দ্বীপের মতো ভাসে। আর শুকনোয় মেঠো পথ ঘুরে আসাযাওয়া চলে। গ্রামে ১৭০ পরিবারের নয়শতাধিক মানুষের বসবাস। সবাই কৃষক। যাতায়াতে দুরবস্থায় গ্রামের শিশুরা ছিল স্কুলবিমুখ। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রীর ‘স্কুলবিহীন গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রকল্পে’ প্রতিষ্ঠিত হয় লক্ষ্মীপুর শেখ হাসিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
নির্মিত হয় ২ কোটি টাকার সুদৃশ্য ভবন। শতাধিক শিশু এখন পড়ালেখা করে।
প্রধান শিক্ষক ইয়াকুব আলী জানান, লক্ষ্মীপুর গ্রামে প্রবেশের কোনো রাস্তা নেই। তেমনি গ্রামের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত স্কুলে যাওয়ার হালট একদম নিচু। বর্ষায় পাঁচ মাস নৌকা বা ভেলা স্কুলে যাওয়ার অবলম্বন। নিচু হালটে তিন মাস জুড়ে থাকে হাঁটুসমান এঁটেল কাদা। শুধু ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত পায়ে হেঁটে স্কুলে আসাযাওয়া চলে। স্কুলের সভাপতি খন্দকার রঞ্জু জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্রামের শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের জন্য সরকারি স্কুল করে দিয়েছেন। কিন্তু স্কুলে যাওয়ার হালট বিল সমান নিচু। বিল শুকালে হালট জাগে। আর বিলে পানি এলে হালট অগাধ পানিতে ডোবে। প্রাথমিক শিক্ষাখাতে কত বাজেট আসে। কাঁচা রাস্তা সংস্কারে কত টিআর, কাবিটা আসে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নামের এ স্কুলে যাতায়াত করা হালটে মাটি ভরাটের আবেদনে কেউ সাড়া দিচ্ছেন না।
লক্ষ্মীপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মহিরউদ্দীন জানান, যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় উন্নয়ন বঞ্চিত লক্ষ্মীপুর। উত্তর পাথালিয়া বটতলা থেকে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত সেটেলমেন্ট রেকর্ডের ২০ ফিট প্রশ্বস্ত খাস হালট রয়েছে। এ হালটে মাটি ফেলে রাস্তার দাবি বহুদিনের। রাস্তাটি হলে লক্ষ্মীপুর, পাথালিয়া, জোতহরি, পদ্মপুর, চাতুটিয়া, বিলডগা, চককাশি, মাইজবাড়ী, চরচতিলা ও বনমালী গ্রামের মানুষের সহজ যাতায়াত সম্ভব হতো। ২০১ গম্বুজ মসজিদে পর্যটকের আসাযাওয়া নির্বিঘ্ন হতো। অপরদিকে তিন দিকে ঝিনাই নদী আর একদিকে বিল বেষ্টিত পদ্মপুর।
সাবেক ইউপি মেম্বার গোলাফ মিয়া জানান, গ্রামে সাত শতাধিক লোকের বাস। কোনো স্কুল নেই। স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই। গ্রামে প্রবেশের বড় রাস্তা নেই। একমাত্র সরু হালট বর্ষায় ডুবে যায়। অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। শিক্ষা-দীক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতায় পিছিয়ে। ঝিনাই নদীর পদ্মপুর-পাথালিয়া তালতলা পাড়ে একটি ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণের দাবি বহুদিনের।
কলেজ ছাত্র এনামুল জানান, ১৮৬০ সালে গ্রামের গোড়াপত্তন। কিন্তু খুবই অবহেলিত। গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হক জানান, মান্ধাতা আমলের গাঁও-গেরামের প্রতিচ্ছবি পদ্মপুর। স্বাধীনতার ৫০ বছরে উন্নয়নে দেশের অনেক কিছুই বদলে গেছে। আশপাশের গ্রামও বদলে গেছে। কিন্তু বদলে যায়নি মুক্তিযুদ্ধের পাদপীঠ পদ্মপুর। অশিক্ষা, বেকারত্ব, দারিদ্র্য ও অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে অন্ধকারে ডুবে আছে পদ্মপুর। নগদাশিমলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হোসেন আলী মানুষের দুর্ভোগের সত্যতা স্বীকার করে জানান, চেষ্টা করেও তিনি উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে পারেননি।
উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, লক্ষ্মীপুর শেখ হাসিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গমনের রাস্তা নিচু হওয়ায় শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগ পোহায়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজ মল্লিক জানান, সরকার সুষম উন্নয়নে বিশ্বাসী। বিষয়টি তিনি খোঁজখবর নিয়ে দেখবেন।
ইত্তেফাক/কেএইচ
