অগ্রিম টাকার পরিশোধের পরও নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য না পাওয়ায় অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের মালিকসহ সাত জনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ বুধবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হোসেন মোহাম্মদ রেজার আদালতে এই মামলা দায়ের করা হয়।
মামলায় আসামিরা হলেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক সোনিয়া মেহজাবিন, তার স্বামী মাসুকুর রহমান, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা শেখ সোহেল রানা, কর্মকর্তা আমানুল্লাহ, বীথি আক্তার, জায়েদুল ফিরোজ ও নাজমুল হাসান রাসেল।
মামলাটি করেছেন চট্টগ্রাম নগরীর রেয়াজউদ্দিন বাজারের নুরুল আবছার পারভেজ নামে এক ব্যবসায়ী। তিনিসহ প্রতারিত অপর ব্যবসায়ী ও ই-অরেঞ্জের গ্রাহক মোর্শেদ সিকদার এবং মাহমুদুল হাসান খানের পক্ষে প্রায় সাড়ে ১১ লক্ষ টাকা পাওনা দাবি করে তিনি এ মামলা করেন। বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ২৭ মে’র পর থেকে বিভিন্ন সময় পণ্য ক্রয় করার জন্য ই-অরেঞ্জকে অর্থ প্রদান করেন এই গ্রাহকরা। নির্দিষ্ট সময়ের পর এমনটি অদ্যাবধিও তারা এসব গ্রাহকদের কোনো পণ্য সরবরাহ করেনি। অর্ডার নেয়ার পর থেকে ই-অরেঞ্জ কর্তৃপক্ষ ফেসবুকে নোটিশের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় গ্রাহকদের পণ্য সরবরাহের আশ্বাস দেয়, কিন্তু তারা পণ্য সরবরাহ না করে দেশে প্রায় এক লাখ গ্রাহকের ১১শ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। আত্মসাৎ করা এ টাকার মধ্যে চট্টগ্রামের উক্ত ৩ গ্রাহকের প্রায় সাড়ে ১১ লক্ষ টাকা সহ কয়েক কোটি টাকা রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা মুরাদ বলেন, ই-অরেঞ্জ সারা দেশে লাখ লাখ গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আমরা চট্টগ্রামের প্রতারিত গ্রাহকদের টাকা ফেরত চেয়ে আদালতে মামলা করেছি। আশা করি ন্যায় বিচার পাব।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি
