রাজধানীতে পথচারীদের সুবিধার্থে রাজধানীর বনানী, বসুন্ধরা ও এয়ারপোর্টের সামনের ফুটওভার ব্রিজে দুটি করে চারটি চলন্ত সিঁড়ি বসিয়েছিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। কিছু দিন না যেতেই কিছু সিঁড়িগুলো বিকল হয়ে পড়ে। আবার কিছু সিঁড়ি অফিসটাইমের আগে-পরে বন্ধ রাখা হচ্ছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনের মোড়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন সেই ফুটওভার ব্রিজের চলন্ত সিঁড়িটি অনেকদিন ধরে বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন হাজারো মানুষ। বাধ্য হয়ে পথচারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফুটওভার ব্রিজের নিচ দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন। কবে এই সিঁড়ি সচল হবে তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না কেউ।
চার কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ফুটওভার ব্রিজটি নির্মাণ করে বিমানবাহিনীর ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড। ডিএনসিসির অর্থায়নে নির্মিত ব্রিজটি ২০১৬ সালের ১৭ আগস্ট তৎকালীন মেয়র আনিসুল হক উদ্বোধন করেন।
![]()
সরেজমিনে দেখা গেছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওপর ফুটওভার ব্রিজের চলন্ত সিঁড়ি দুটি বন্ধ। পথচারীরা পায়ে হেঁটে ওভার ব্রিজ পার হচ্ছেন। সিঁড়ি বন্ধ থাকায় বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষদের অনেক কষ্ট করে রাস্তা পার হতে হচ্ছে।
এদিকে, পথচারীদের চাপ বাড়ার কারণে সিঁড়ির দুই পাশে লাইন ধরে পার হচ্ছেন মানুষ। একদিকে এস্কেলেটর বন্ধ অন্যদিকে ব্রিজের মধ্যে হকার ও ভিক্ষুকদের উৎপাতে সাধারণ পথচারীদের পড়তে হচ্ছে চরম বিড়ম্বনায়। অন্যদিকে, এস্কেলেটর বন্ধ থাকায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এর বিভিন্ন পার্টস। ক্ষতি হচ্ছে কোটি টাকার সম্পদের।
![]()
এই বিষয়ে জানতে চাইলে জহিরুল ইসলাম নামে এক পথচারী বলেন, ‘ফুটওভারব্রিজের চলন্ত সিঁড়িগুলো কিছু দিন সচল থাকে। আবার কিছু দিন পর অচল হয়ে যায়। চলন্ত সিঁড়ি বন্ধ থাকায় রাস্তা পারাপারে বয়স্ক নারী পুরুষ ও বাচ্চাদের সমস্যা হচ্ছে। কারণ খাড়া সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠা তাদের জন্য খুবেই কষ্টকর। এছাড়া ফুটওভারব্রিজটি প্রতিদিন ভিক্ষুক ও হকারদের দখলে থাকে। ফলে অনেকেই ফুটওভারব্রিজটি ব্যবহার করতে স্বাচ্ছান্দ্যবোধ করেন না। তাই তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা দিয়েই পার হচ্ছেন।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ট্রাফিক পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘বিমানবন্দর গোলচত্বরে প্রতিদিন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়। কারণ একদিকে বিমানবন্দর, অন্যদিকে রেলস্টেশন, পূর্বপাশে দক্ষিণখান ও উত্তরখানের বিশাল এলাকার হাজার হাজার পরিবহন ও মানুষ এ রাস্তাটি ব্যবহার করে। চলন্ত সিঁড়ি বন্ধ থাকায় পথচারীরা বেশিরভাগ সময় রাস্তা দিয়ে পার হন। এ সিগন্যালে জ্যাম এখন বহুগুণে বেড়ে গেছে। চলন্ত সিঁড়ি বন্ধ না হলে পথচারীদের চাপ কম থাকতো রাস্তায়। কিন্তু ফুটওভারব্রিজটি যথাযথভাবে ব্যবহার না করায় পরিবহন ও পথচারীদের পারাপারে সমস্যার সৃষ্টি হয়। শুধু প্রধান সড়কেই নয়, বিমানবন্দর থেকে বের হতেও যাত্রীদের যানবাহন নিয়ে দীর্ঘ সময় আটকা পড়তে হয়। আমরা যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করবো? না পথচারীদের পারাপারে সহযোগিতা করবো?’
![]()
ডিএনসিসির বনানী সৈনিক ক্লাব ও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দুটি ফুটওভার ব্রিজে সংযুক্ত করে কোটি টাকার এস্কেলেটর। এই এস্কেলেটর বসানো হয়েছিল পথচারীদের ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে আগ্রহ, সচেতনতা বৃদ্ধি, বয়স্কদের কষ্ট লাঘব করার লক্ষ্যে।
বনানী সৈনিক ক্লাব ফুটওভার ব্রিজ ও প্রগতি সরণিতে বসুন্ধরা গেটে থাকা ফুটওভার ব্রিজে গিয়ে দেখা গেছে, ফুটওভার ব্রিজের চলন্ত সিঁড়ির সামনের গেট বন্ধ। গেট টপকে ভেতরে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে কয়েকজন গল্প করছেন। অনেক পথচারী চলন্ত সিঁড়ির সামনে এসে বন্ধ দেখে বিপরীত পাশের সিঁড়ি ব্যবহার করছেন। অনেকে আবার রাস্তা দিয়েই পার হচ্ছেন। বিমানবন্দরের ওভারব্রিজ থেকে এখানে পথচারীর পরিমাণ তুলনামূলক কম। নিয়মিত পথচারীদের অভিযোগ, এই স্কেলেটরটিগুলো কখন খোলা থাকে, কখন বন্ধ হয়ে যায়, তা কেউ বলতে পারে না। তবে যেদিনই চালু খুলুক, সকাল ৯টার আগে কোনো দিনই খুলে দেয় না।
![]()
এদিকে, বনানীর চলন্ত বন্ধ সিঁড়ি পথচারী আবির হোসেনের অভিযোগ, ‘চলন্ত সিঁড়ি সচল থাকলে বয়স্ক নারী-পুরুষ ও শিশুদের চলাচলের সুবিধা হয়। কিন্তু এ সিঁড়ি বন্ধ হওয়ার কারণে এখন তাদের রাস্তা পারাপারে সমস্যা হচ্ছে।’
ফুট ওভারব্রিজের চলন্ত সিঁড়িগুলো বন্ধ থাকা বিষয়ে ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে, এসব অভিযোগের বিষয়ে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘বিমানবন্দর এলাকার ওভারব্রিজের চলন্ত সিঁড়িটি গত দেড়মাস ধরে বন্ধ থাকার বিষয়টি আমার জানা নেই। এছাড়া, বনানী ও বসুন্ধরার ফুট ওভারব্রিজের চলন্ত সিঁড়িটি সকাল ৯ টার আগে চালু না হওয়া বিষয়ও আমার জানা নেই। তবে আমি এখনই সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দিচ্ছি, তারা যেন, এসব সমস্যার সমাধান করেন।’
ইত্তেফাক/এনঅ/এনই
