‘নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চুর নির্দেশনায় কাজ করা আমার জন্য পরম পাওয়া হবে’

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২১, ২০:২০

নাজনীন হাসান চুমকী বাংলাদেশের থিয়েটার ও টিভি নাটকের একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী। মঞ্চে তিনি যুক্ত আছেন দেশ নাটক’র সঙ্গে। তার অভিনয় দোলা দেয় নাট্যপ্রেমী দর্শকের মনে। দেশ নাটকের দর্শকনন্দিত নাটক লোহা, বিরসা কাব্য, নিত্যপুরান, জলবাসর সহ বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেছেন। এছাড়া ‘সীতার অগ্নি পরীক্ষা’ নামে সাধনা দলের ব্যানারে একক অভিনয়ের নাটকে অভিনয় করেছেন। বর্তমানে মঞ্চে অভিনয় করছেন মাসুম রেজার লেখা এবং দেশ নাটক ও ঢাকা থিয়েটারের যৌথ প্রযোজনা পেন্ডুলাম নাটকে। তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাহবুব আলম

দীর্ঘ বিরতির পর মঞ্চ আবারো সরব হচ্ছে— আপনার অনুভূতি কেমন?

আমার আসলে কখনো মনে হয়নি যে থিয়েটার নীরব হবে। তবে কোভিডের কারণে আমাদের সবাইকে অনেক ভুগতে হয়েছে। বদ্ধ ঘরে রিহার্সেল করাটা আমার কাছে খুব একটা ভালো বিষয় মনে হয় না। কেননা আমরা সবাই মিলে তো যথেষ্ট সচেতন নই এখনো। আমরা তো জানি না—কে বা কারা এই রোগটা বহন করে চলছি। মাঝে আমরা একটু থেমে ছিলাম সেটা মন খারাপের ছিল আর এখন আবারো আগের মতো অবস্থানে ফিরছি—এটা খুবই আনন্দের, ভালো লাগার।

নিত্যপুরান, জলবাসর এবং পেন্ডুলাম, সবগুলো নাটকে অন্যতম প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের অভিব্যক্তি কেমন?

থিয়েটারে আসলে প্রধান চরিত্র বলে কোনো চরিত্র নেই। প্রত্যেকটি চরিত্রই আরেকটি চরিত্র’র সঙ্গে এমন ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং সম্পর্ক এতটা গভীর যে, কেউ কাউকে ছাড়া চিন্তা নিজের অস্তিত্ব চিন্তা করতে পারে না। আমি মানি না যে, কোনো একজন প্রধান চরিত্র। কারণ আমরা প্রত্যেকেই একটা মালার মতো। নাটকের প্রয়োজনে প্রত্যেকেই অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। প্রত্যেকের সঙ্গেই পালস্ ইমপালসের ব্যাপারটা ভয়াবহ। তাছাড়া নাটকের গতি নষ্ট বা টেম্পু নষ্ট হবে। তাই আমার কাছে মনে হয় নাটকে প্রধান চরিত্র বলে কিছু নেই।

পেন্ডুলাম নাটকে আপনার চরিত্র সম্পর্কে বলবেন কি?

পেন্ডুলাম নাটকে আমি আসলে এখনো দুটি চরিত্রে অভিনয় করছি। সেই ক্ষেত্রে আমি এখনো কিছুই বলতে চাই না। নাটক মঞ্চে আসলে দর্শকরা দেখবে এবং সেটি দর্শকরাই বলবে। এটি একটু চমক হিসেবেই থাকুক না হয়।

নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চুর নির্দেশনায় এই প্রথম মঞ্চে অভিনয় করতে যাচ্ছেন। তার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?

হ্যাঁ, নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চুর নির্দেশনায় এই প্রথম মঞ্চে অভিনয় করছি। তার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা মাত্রই শুরু হলো। তবে উনার একটা বিষয় আমার খুব মজা লেগেছে যেটা আমাদের মাসুম ভাইয়ের (মাসুম রেজা) একটু সুবিধাজনক অবস্থানে থাকেন। কারণ নাটকটি তো আসলে উনিই লিখেছেন। লেখার সময় উনি চরিত্রগুলোর সব রকমের কার্যকলাপ দেখেছেন। সুতরাং উনার নির্মাণের সময় সেটা সুবিধা হয়। কিন্তু বাচ্চু ভাইয়ের ক্ষেত্রে একটু আলাদা। উনি আসলে এক রকমের যুদ্ধ করছেন আমাদের নিয়ে। মঞ্চে পেন্ডুলামের মাধ্যমে আমি যদি অভিনয় করতে পারি তাহলে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করব। কেননা, তিনি আমার দেখা মঞ্চের অন্যতম সেরা নির্দেশক। নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চুর নির্দেশনায় কাজ করা আমার জন্য পরম পাওয়া হবে।

একজন পরিপূর্ণ অভিনেতা হওয়ার জন্য আসলে কী কী করা প্রয়োজন বলে মনে করেন?

একজন পরিপূর্ণ অভিনেতা হয়ে ওঠা আসলে খুবই কঠিন ব্যাপার। কেননা, একজন অভিনেতার ক্ষুধা তো আসলে নিবারণ হয় না। অভিনেতা যত বছর ধরে অভিনয় করবে তত বছর ধরে তার মধ্যে এই ক্ষুধা বাড়বে। তবে অভিনেতাকে অবশ্যই তার অবজারভেশন পাওয়ার বাড়াতে হবে। সেইসঙ্গে তার পারিপার্শ্বিক জানাশোনা এবং পড়াশোনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।