গতিময় হচ্ছে পদচারণা

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২১, ২০:২১

 রে জা উ ল  ক রি ম  খো ক ন

 

সমপ্রতি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ডিজনি প্লাস হটস্টারে মুক্তি পেয়েছে রাধিকা মদনের নতুন ছবি ‘শিদ্দত’। রোমান্টিক ড্রামা ধাঁচের নতুন এ ছবিটিকে বিগ প্রজেক্ট বলেই ধরে নেওয়া যায়। ট্রেলার মুক্তির পর থেকেই ছবিটি নিয়ে দর্শক বেশ কৌতূহলী হয়ে ওঠেছে। আর ছবিটির প্রমোশনে এসেই সম্প্রতি বিতর্কের ঝড় তুলেছেন রাধিকা মদন। বলিউডের নতুন এই হার্টথ্রব নায়িকা তার একটি পোশাকের জন্য ট্রোলড হয়েছেন। পরনে ছিল কালো ব্রালেট। খোলামেলা পোশাকে প্রকাশ্যে আসতেই উঠে বিতর্কের ঝড়।

অভিনেতা-অভিনেত্রী মানেই পাবলিক ফিগার, তাদের প্রতিটা পদক্ষেপ থাকে সাধারণ মানুষের নখের ডগায়। এবার পোশাক বিতর্কে নাম জড়াল রাধিকা মদনের। রাধিকাকে এই লুকে বেশ স্মার্ট লাগলেও নেট দুনিয়া তা মানতে নারাজ। উল্টো ভারতীয় সংস্কৃতি টেনে এক হাত নিলেন। কেউ আবার তুলল শরীর দেখানোর প্রসঙ্গ। যদিও নিজের পোশাক পরা নিয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী রাধিকা ট্রোলকে জবাব দিতেও ছাড়েননি। সম্প্রতি এক সাক্ষাত্কারে রাধিকা বলেন, ‘আমার মনে আছে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমি কয়েকটি ছবি পোস্ট করেছিলাম। পরের দিন সকালে আমি মন দিয়ে সব মন্তব্যগুলো পড়ছিলাম। আমি একটুও বিচলিত হইনি ট্রোলদের কমেন্ট পড়ে। আমি যা পরেছি সেটা আমার খুবই পছন্দ এবং সেটা যদি কারও পছন্দ না হয় সেটা তার ব্যাপার। এটা আমার শরীর, আমার যা ভালো লাগবে তাই পরব, যা আমাকে আত্মবিশ্বাসী রাখবে।’

রাধিকা দিল্লিতে নাচের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। কালারস টিভি চ্যানেলের ড্রামা সিরিজ ‘মেরি আশিকী তুম সে হি’ দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন ২০১৪ সালে, যা দেড় বছর স্থায়ী হয়েছিল। সেইসঙ্গে তিনি নাচের প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান ‘ঝালাখ দিখ লা যা’র ৮ম মৌসুমেও অংশ নিয়েছিলেন। ২০১৮ সালে তিনি বিশাল ভরদ্বাজের সঙ্গে কমেডি ‘পটাখা’র মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন এবং ফিল্মফেয়ার সেরা নবাগত অভিনেত্রী ও ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়ন লাভ করেন। ২০১৯ সালে ‘মর্দ কো দর্দ না হোতা’য় রাধিকা প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। আংরেজি মিডিয়াম ছিল প্রয়াত অভিনেতা ইরফান খানের বিপরীতে। ছবিটি ২০২০ সালে মুক্তি পেয়েছে। আংরেজি মিডিয়াম ছবিতে ইরফান খানের বিপরীতে অভিনয় করে সকলকে তাক লাগিয়েছিলেন রাধিকা। 

এক সাক্ষাত্কারে রাধিকা তার ফিল্মে আসার প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, ‘আমি যখন সিনেমায় অভিনয়ের জন্য অডিশন দিচ্ছিলাম তখন অনেকেই বলেছিলেন, আমার শরীরে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রতঙ্গ একেবারে নিখুঁত নয়। এজন্য আমাকে সার্জারি করাতে হবে। কিন্তু আমাকে নিজের কাছে একদম যথার্থ এবং পারফেক্ট মনে হয় সব সময়। ওরা আমার ফিগার, অঙ্গ-প্রতঙ্গের সাইজ নিয়ে কথা বলে। ওরা কারা? ওদেরকে এসব বলার অধিকার তো আমি দিইনি।’ নিজের কিশোরীবেলার কথা বলতে গিয়ে রাধিকা বলেন, ‘আমি আমার নিজস্ব জগত নিয়ে বেশ খুশি ছিলাম, নিজেকে রানি ভাবতাম। খুব দুষ্টু এবং চঞ্চল ছিলাম। আমাকে অনেকেই পছন্দ করত। নিজেকে সুন্দরী ভাবতে শুরু করেছিলাম তখন থেকেই।’ বিশাল ভারদ্বাজের পটাখা ছবিতে তাকে বেশ জটিল এবং চ্যালেঞ্জিং একটি রোলে অভিনয় করতে হয়েছিল। তার চেয়ে বেশি বয়স্ক এক গ্রাম্য মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে শরীরের ওজন ১২ কেজি বাড়াতে হয়েছিল। টেলিভিশনের পর বিশাল ভরদ্বাজের পটাখা ছবির মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন, যাতে তিনি সানিয়া মালহোত্রার সঙ্গে কাজ করেন। গল্পে রাজস্থানের দুই বোনের কথা উঠে এসেছে। তার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো— তিনি নিজের অপূর্ণতা নিয়ে হীনমন্যতায় ভোগেন না, বরং তা উদযাপন করেন। এ বছর রাধিকাকে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে দেখা গেছে দুটি ভিন্ন গল্পের সিরিজ ফিল্মে। এর মধ্যে একটি হলো সত্যজিত্ রায়ের গল্প অবলম্বনে নির্মিত ‘স্পটলাইট’ এবং রোমান্টিক ঘরানার গল্প ‘ফিল লাইক ইশক’-এ। ছবি দুটিতে তার চমত্কার, প্রাণবন্ত, উজ্জ্বল উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। সব ধরনের গল্পে রাধিকা নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন— এটা তার বিশেষ যোগ্যতা। দিনে দিনে তার পদচারণা আরো গতিময় হচ্ছে। তিনি যতটা এগিয়েছেন তাতে সন্তুষ্ট। তার দৃঢ় বিশ্বাস— যোগ্যতাই তাকে আরো সামনে এগিয়ে নেবে।