‘ভিউ দিয়ে শিল্প বিচার করা যায় না’

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২১, ২০:২৪

নব্বইয়ের থেকে যে ক’জন নির্মাতা নিজেদের কাজের সফল শিরোনাম হতে পেরেছেন তাদের ভেতর অন্যতম নির্মাতা সালাউদ্দিন লাভলু। দেশের নাটকের প্রাসঙ্গিক ধারাবদলের পথিকৃত তিনি। নিয়মিত নির্মাণ ও অভিনয়ের পাশাপাশি ডিরেক্টর গিল্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। নিজের কাজ ও নাটক-চলচিত্রের সার্বিক বিষয় নিয়ে তিনি কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল

কোন কাজগুলো নিয়ে ব্যস্ত আছেন?

সম্প্রতি ‘বলি’ শিরোনামের একটি ওয়েব সিরিজে অভিনয় করলাম। এছাড়া আগামী ২০ অক্টোবর থেকে ‘সন্ডা পান্ডা’ নামের একটি নাটক নির্মাণ শুরু করব।

শুরুর দিকে ক্যামেরা ফর্মেশনের সুযোগ না থাকার পরও আপনি তারকা বনে যান। যার ধারাবাহিকতা এখনো ধরে রেখেছেন। কীভাবে এই সফলতার পথে হাঁটলেন?

নাটক শুধু আমার নেশা-পেশা নয়, আমার ভবিষ্যত্ পরিকল্পনাও নাটক ঘিরেই। সেই জায়গা থেকে দর্শকদের সঙ্গে আমার একটা যোগাযোগ থাকে। আমিও চেষ্টা করি তাদের চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে নির্মাণ করার, দেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরার। এ জন্য দর্শকরাও হয়তো আমার কাজগুলো ভালোবাসেন।

ওটিটিতে অনেকেই এখন নিয়মিত হচ্ছেন। মাধ্যমটি নিয়ে আপনার পরিকল্পনা ও প্রত্যাশা কী?

যেহেতু এটি একটি আন্তর্জাতিক প্লাটফর্ম সেহেতু এখানে কাজ করতে হলে প্রস্তুতির একটি বিষয় রয়েছে। তবে বেশ কয়েকটি প্লাটফর্মের সঙ্গে আমার কথা চলছে। সব কিছু মিলে গেলে শিগগিরই হয়তো ওটিটির জন্য নির্মাণ করব।

বেশিরভাগ নির্মাতাই গল্পনির্ভর কাজের দিকে ঝুঁকছেন। এটা কী দর্শক চাহিদা, নাকি পট পরিবর্তনের কারণে হচ্ছে?

গল্পনির্ভর কাজ আগেও আমাদের দেশে হয়েছে। কিন্তু মাঝে এই জায়গা থেকে আমরা সরে এসেছিলাম। ওটিটি আসার পর আবার সবাই গল্পনির্ভর কাজের দিকে ঝুঁকছে, এটা খুবই ইতিবাচক আমাদের জন্য।

এ ধরনের কাজ বেশি হওয়ায় চরিত্রাভিনেতাদের সুযোগ বা চাহিদা বাড়ছে কি-না?

অবশ্যই চরিত্রাভিনেতাদের কাজের পরিধি প্রসারিত হচ্ছে। এতে করে যারা সত্যিকারের অভিনেতা-অভিনেত্রী তাদের গুরুত্ব বাড়ছে, পাশাপাশি তাদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

নাটকে জোর করে ভাঁড়ামো করতে গিয়ে নির্মাতারা সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সরে যাচ্ছে মনে করছেন না?

অবশ্যই সরে যাচ্ছে। নির্মাতা বা অভিনেতাদের বরাবরই একটা সামাজিক দায়িত্ব থাকে। সেই জায়গা থেকে আমি যা ইচ্ছে তা-ই দেখাতে পারি না। আমি মনে করি, যারা স্থুল জনপ্রিয়তা পাওয়ার আশায় এ ধরনের কাজ করছেন তাদের শিল্প চেতনা, দায়বদ্ধতা বা প্রপার শিক্ষার অভাব রয়েছে।

এ থেকে উত্তরণের উপায় কী?

দেখুন, উন্মুক্ত মাধ্যম হওয়া এবং সেন্সরের ব্যবস্থা না থাকায় এ ধরনের কাজ আটকানোর উপায় নেই। তবে আমরা যদি ভালো কাজ বেশি করি, তবে একটা সময় এ ধরনের কাজগুলো হারিয়ে যাবে।

একটি নাটকে অনেকগুলো আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার ভাষা সম্পর্কে মানুষের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছাচ্ছে না?

কেউ যদি ইচ্ছে করে এমন কাজ করে, তবে অবশ্যই সে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিচ্ছে। মায়ের ভাষা ব্যবহার করতে গিয়ে একটি অঞ্চলের ভাষা ব্যবহার করা যেতেই পারে, কিন্তু নানা ভাষা এক নাটকে ব্যবহার সত্যি দুঃখজনক।

ভিউ গুণে শিল্প মূল্য বিচারের চর্চা নিয়ে কী বলবেন?

এটা খুবই খারাপ বিষয়। ভিউ দিয়ে শিল্প বিচার করা যায় না। তবে ওটিটি আসায় এরইমধ্যে দর্শকরা বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। আমি মনে করি আগামী ১ বছরের মাঝে ভিউ চর্চা না-ই হয়ে যাবে।

চলচ্চিত্র নির্মাণে ফেরার ইচ্ছে আছে কি-না?

চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রস্তুতি আগেই নিয়েছিলাম। কিন্তু করোনার কারণে পিছিয়ে গেছে। তবে সিনেমা হলগুলো খুলতে শুরু করলে আগামী বছর হয়তো ছবি নির্মাণ করব।