বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু এখনো বিচারকাজ শেষ হয়নি। করোনার কারণে বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে মামলার বিচারকাজ। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় চলতি বছরের নভেম্বর মাসে বিচার সম্পন্নের আশা করছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। এদিকে নিহত আবরারের ব্যবহূত জিনিসপত্রে ছেলেকে খোঁজে ফেরেন পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, দ্রুতই বিচারকাজ যেন সম্পন্ন হয়। আবরারের হত্যাকারীরা যেন সর্বোচ্চ শাস্তি পায় সেটাই তাদের প্রত্যাশা।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের একটি কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে পরের দিন চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন আবরারের বাবা বরকতউল্লাহ। তদন্ত শেষে ২৫ জনকে অভিযুক্ত চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। এদের মধ্যে ২২ জন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। পলাতক রয়েছেন তিন জন। মামলায় আট জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্তমানে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ চাঞ্চল্যকর এ মামলার বিচারকাজ চলছে। আগামী ২০ অক্টোবর এই মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। ঐদিন রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মামলায় যুক্তিতর্ক পেশ করা হবে। এরপর আসামিপক্ষ যুক্তিতর্ক পেশ করবেন। এরপর বিচারক মামলাটি রায়ের জন্য দিন ধার্য করে দেবেন বলে জানান ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি আবু আব্দুল্লাহ ভুঁইয়া।
এদিকে কুষ্টিয়ার পিটিআই রোডের বাসায় আবরার ফাহাদের জামা-কাপড়, বইপত্র ও ব্যবহূত জিনিসপত্রে তাকে খোঁজে ফেরেন পরিবারের সদস্যরা। আবরারের মা রোকেয়া খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, আমার ছেলে আবরারকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আবরারের হত্যাকারীদের মৃত্যুদণ্ড হলে তখন তাদের পরিবার বুঝবে ছেলে হারানোর কতটা যন্ত্রণা নিয়ে আমি বেঁচে আছি। আবরারের ছোট ভাই আবরার ফায়াজ বলেন, বিচারকাজে বিলম্ব হওয়ায় অনেকেই এই মামলাটিকে ভিন্ন খাতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে। তাই দ্রুত সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে।
